Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৬

ইতিহাস

সোভিয়েত যুদ্ধ কৌশল

সোভিয়েত যুদ্ধ কৌশল

স্টালিনের আমলে ভিন্নমতাবলম্বী সন্দেহে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। কমিউনিস্ট পার্টির নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের অনেককেই ভিন্নমতাবলম্বী সন্দেহে প্রাণ হারাতে হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে চলে ভয়াবহ হত্যালীলা। এ সময় জার্মানরা সোভিয়েত     কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি অনুযায়ী সাড়ে ৩ লাখ সোভিয়েত লাল ফৌজকে হত্যা করে। তাদের হাতে সাধারণ মানুষের জীবনহানি ঘটেছে লাখে লাখ।

জার্মান হামলার মুখে স্টালিন ১৯৪১ সালের ৬ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিন দশকব্যাপী শাসনামলে এটি ছিল জাতির উদ্দেশে তার দ্বিতীয় ভাষণ। সোভিয়েত একনায়ক স্টালিন তার ভাষণে দাবি করেন যে, ‘জার্মান হামলায় সোভিয়েত বাহিনীর সাড়ে ৩ লাখ সেনা নিহত হলেও ৪৫ লাখ জার্মান সেনাও নিহত হয়েছে এবং বিজয় আমাদের দ্বারপ্রান্তে।’ স্টালিন জার্মান সেনা নিহত হওয়ার যে সংখ্যা উল্লেখ করেন তা ছিল উদার কল্পনা। এ কথা ঠিক, জার্মানদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত সেনারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এ প্রতিরোধের জন্য তাদের ব্যাপক মূল্য দিতে হয়। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মস্কোর উপকণ্ঠে হানাদার সেনাদের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ এবং তাদের অগ্রাভিযান থামিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত জার্মান সেনাদের বিরুদ্ধে লাল ফৌজের প্রতিরোধ ছিল অকার্যকর। সোভিয়েত সেনারা যুদ্ধে ব্যর্থ হলেও প্রচ- ঠান্ডা আবহাওয়া জার্মানদের পরাজয় ডেকে আনে। স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধে জার্মানদের পরাজিত করতে সোভিয়েত মার্শাল জর্জিঝুচভের সঙ্গে স্টালিন একযোগে কলাকৌশল প্রণয়ন করেন। জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে সোভিয়েত সেনারা প্রাণপণ লড়েছে বাধ্য হয়ে। যুদ্ধে পিছু হটলেই তাদের জন্য মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। ১৯৪৮ সালের ২৭ জুলাই স্টালিনের ২২৭ নম্বর অর্ডারে তার যুদ্ধ কৌশলের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সোভিয়েত স্বৈরশাসক ঘোষণা করেন, ‘যেসব সেনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া তাদের অবস্থান ত্যাগ করবে অথবা পিছু হটবে তাদের তখনই গুলি করা হবে।’ আরও নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘যেসব সেনা আত্মসমর্পণ করবে তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্মম সন্ত্রাসের শিকার হবে।’ পিছু হটে যাওয়া সেনাদের মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করার জন্য রণাঙ্গনের পশ্চাদ্ভাগে বিশেষ বাহিনীর সেনাদের মোতায়েন করা হয়। আত্মসমর্পণকারী সেনাদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। তাদের পরিবারের জন্য নেমে আসত কমিউনিস্ট গজব। জার্মানদের নির্যাতন সহ্য করে যেসব সেনা জীবিত ছিল, এক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর আবার তাদের আরেক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো।

 

 


আপনার মন্তব্য