শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:২৫

রোহিঙ্গা উপদ্রব

ওদের যেভাবে হোক ফেরত পাঠান

রোহিঙ্গা উপদ্রব

রোহিঙ্গা সমস্যা নামের সাক্ষাৎ আপদের কারণে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই বিপদের মুখে পড়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গার চাপে দেশের কক্সবাজার জেলা ভারসাম্যহীন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শুক্রবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের, যা পূরণ করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের কারণে বন গেছে, গাছ নেই, পশুপাখিসহ ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য, ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্যহাতি। এখন নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে পানি সংকট। প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর ক্রমে নিচে নামছে, বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে পানি সংকট। এ সংকটের কারণে আগামীতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছু মিলে উখিয়া-টেকনাফ এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে এমনিতে বড় ক্ষতি হয়েছে, তাই এখন নতুন করে আর কোনো ক্ষতির হিসাব গুনতে চাই না। রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেওয়া হবে না। যারা পাহাড় কাটবে তাদের রেহাই নেই। এনজিওগুলো পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল মানবিক কারণে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুরোধে। তার পর থেকে মিয়ানমারে উগ্র মানসিকতার অপরাধপ্রবণ এই জাতিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার মাশুল বাংলাদেশকে গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশে মাদক পাচারের সঙ্গে তারা ব্যাপকভাবে জড়িত। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত তারা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ইতিমধ্যে অপরাধীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় জন্ম নিয়েছে ১ লাখের বেশি শিশু। রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া ও টেকনাফের অধিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠক ওই অঞ্চলের পাহাড় ও বনাঞ্চলের বিনাশ রোধে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। দেরিতে হলেও আমাদের কর্তাব্যক্তিদের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙেছে- এটি একটি শুভলক্ষণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, জাতিকে রোহিঙ্গা সমস্যা নামের আপদের হাত থেকে উদ্ধার করতে যেভাবেই হোক তাদের দেশে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করা হবে।


আপনার মন্তব্য