শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৩

কৃষি উন্নয়নে সমবায়

কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্যের অপচয় রোধ এবং সহজ বাজারজাত নিশ্চিতকরণে সমবায়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বলেছেন আমাদের চাষোপযোগী জমি সীমিত। তারপরও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় সব খাদ্য উৎপাদনে আমরা অগ্রগামী। সমবায়ের ভিত্তিতে কাজ করতে পারলে অপচয় যেমন কম হবে, তেমন বাজারজাতে সুবিধা পাওয়া যাবে, প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শনিবার জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক। দেশের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সমবায়ের যোগসূত্র স্থাপন করা গেলে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। চাষোপযোগী কোনো জমি অনাবাদি থাকবে না। সমবায়ের মূল চেতনা হলো সম্মিলিত উদ্যোগ। একার পক্ষে যে কাজ করা সম্ভব নয় তা সম্মিলিত উদ্যোগে সহজে করা যায়। সমবায় অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পুঁজি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে; যার সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ। এসব সমবায় সমিতির মোট কার্যকর মূলধনের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সমবায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। এ ক্ষেত্রে অজুত সম্ভাবনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের ধান উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে সমবায় পদ্ধতি কাজে লাগালে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে অবদান রাখবে। আলু-পিয়াজসহ আরও কিছু পণ্য সংরক্ষণে সমবায় পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। দেশে গত চার যুগে খাদ্য উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়লেও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার নানা সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তাতে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কৃষি উৎপাদনে সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ এবং বাজারজাতের ব্যবস্থা করলে তাতে সমবায় আন্দোলন যেমন শক্তিশালী হবে তেমন নিশ্চিত হবে খাদ্য নিরাপত্তা।  এ ব্যাপারে কৃষক পর্যায়ে সমবায় সংগঠন প্রতিষ্ঠায়  সরকার উৎসাহ জোগাবে এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য