শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫২

প্রকৃতিকে বাঁচালে নিজে বাঁচবেন

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

প্রকৃতিকে বাঁচালে নিজে বাঁচবেন

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জাহারাল ফাসাদু ফিল বাররি ওয়াল বাহরি বিমা কাসাবাত আয়দিয়ান্নাস। জলে-স্থলে যেসব বিপর্যয় হয় সব মানুষের হাতের অর্জন।’ আজকের আধুনিক বিজ্ঞানও হাতেকলমে প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে, পৃথিবীতে যত ধরনের বিপর্যয় ঘটে, যত ধরনের অনাচার সৃষ্টি হয়, তার সবগুলোতে কোনো না কোনোভাবে মানুষের হাত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের একজন দার্শনিক এবং সুফি গুরু এক আলোচনায় তার ভক্তদের উদ্দেশে বলেছেন, এ শতাব্দীর মানুষের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, তারা নিজেদের আবিষ্কারের ডানায় ভর করে উৎকর্ষতার চরম শিখরে আরোহণ করতে গিয়ে প্রকৃতিকে ভুলে গেছে পুরোপুরি। মানুষ যখন প্রকৃতিকে ভুলে যায়, প্রকৃতির বিরুদ্ধে চলে তখনই মানব গ্রহে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। অতীতেও এমনটাই ঘটেছে। মানুষ এই সামান্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধন করেই দাবি করছে, তারা আবিষ্কারের স্বর্ণ শিখরে অবস্থান করছে। কিন্তু কোরআন পড়লে জানা যায়, আজকের বিজ্ঞানের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী চমকে দেওয়া প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিল পূর্ববর্তী মানুষ। মানুষ তখন প্রযুক্তিতে এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, তারা নিজেদের অমর পর্যন্ত দাবি করে বসেছিল।

সেসব জাতিও যখন প্রকৃতিবিরুদ্ধ জীবনযাপন করা শুরু করেছিল, আল্লাহতায়ালা তাদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। আদ এবং সামুদসহ আরও অন্যান্য জাতির ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা বলেছেন পবিত্র কোরআনে। আল্লাহ বলছেন, ‘তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক বিশাল বিশাল বিল্ডিংয়ের নির্মাতা আদ জাতির ইরাম গোত্রের কী পরিণতি করেছিলেন। এদের মতো প্রযুক্তিসমৃদ্ধ জাতি আর কোথাও সৃষ্টি করা হয়নি। আর আমি সামুদ জাতির পরিণতি কী করেছিলাম তাও কি তুমি দেখনি, তারা পাহাড়ে পাথর কেটে চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ বানাত। এক সময় ওরা প্রকৃতি ভুলে প্রকৃতিবিরুদ্ধ জীবনযাপন শুরু করল। ওরা সীমা লঙ্ঘন করল। আর তোমার প্রভু ওদের ওপর আজাবের চাবুক মারলেন। মুহূর্তেই ওরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। মনে রেখ, তোমার প্রভু সব দিকে সমান দৃষ্টি রাখেন।’ (সূরা ফজর, আয়াত : ৬-১৪)। পবিত্র কোরআনে নানান জায়গায় এভাবে পূর্ববর্তী প্রজম্মের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। এসব বলার উদ্দেশ্য একটাই ছিল- এ প্রজম্মের মানুষ যেন সতর্ক হয়, সচেতন হয়। আফসোস! আমরাও অতীতের মানুষের মতো ক্রমেই প্রকৃতি ছেড়ে, প্রকৃতির স্রস্টা আল্লাহকে ভুলে অন্ধকারের দিকে ছুটে চলছি। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পরপরই এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে গেল আমাদের প্রিয় জম্মভূমি বাংলাদেশে। এমনিভাবে অসংখ্য দুর্ঘটনা, আসমানি বিপদ, জমিনি বিপদ তো ঘটছেই, পাশাপাশি মানুষ মানুষের প্রতি হিংস্র হয়ে উঠছে। আপনজনরা আপনজনদের খুন করে ফেলছে। শুধু খুন করেই শান্ত থাকছে না- মরদেহের ওপর নির্মম নির্যাতন পর্যন্ত করছে। এভাবে চলতে থাকা মানে প্রভুর আজাবের খুব কাছে চলে যাওয়া! এখনো সময় আছে, আমরা যদি তাওবা করে প্রভুর কাছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরে আসি, আমাদের প্রযুক্তি যদি প্রকৃতি রক্ষা করার প্রযুক্তি হতে পারে, আমাদের জীবনযাপন যদি প্রকৃতিবিমুখ না হয় তা হলে আশা করা যায়, ইউনুস নবীর উম্মতের মতো আমরাও ধ্বংসের কাছে গিয়েও ক্ষমা পাব। আমাদের দুনিয়া সুন্দর হবে।  আখেরাতে মুক্তি মিলবে।  আল্লাহ আমাদের দিনের সহি বুঝ দান করুন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি।

www.selimazadi.com


আপনার মন্তব্য