শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৪

সন্তানদের সুশিক্ষার তাগিদ দেয় ইসলাম

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

সন্তানদের সুশিক্ষার তাগিদ দেয় ইসলাম

ইসলামে সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়ার তাগিদ রয়েছে। এটি প্রত্যেক বাবা-মার  করণীয় কর্তব্য। এটি তাদের ইমানি দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচিত। সন্তানদের সুশিক্ষা দান সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। হজরত লোকমান (আ.) স্বীয় পুত্রকে যে মূল্যবান নসিহত করেছেন তাতে বলেছেন, অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না। পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো উদ্ধত-অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আল কোরআনে লোকমান (আ.)-এর এই নসিয়তের কথা বলা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়া যে বাবা-মার কর্তব্য সে বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ যখন মরে যায় তখন তার যাবতীয় কাজেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু তিন প্রকারের কাজ অব্যাহত থাকেÑ ১. সদকায়ে জারিয়া অর্থাৎ এমন দান-খয়রাত যার দ্বারা মানুষ দীর্ঘকাল ধরে উপকৃত হতে থাকে ২. এমন ইলম (জ্ঞান-বিজ্ঞান) যা থেকে (মৃত্যুর পরও) ফায়দা পাওয়া যায় এবং ৩. এমন সৎকর্মপরায়ণ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ মুসলিম থেকে মিশকাতে।

আইউব ইবনে মুসা (রা.) থেকে তাঁর ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম আচার-ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভালো কোনো জিনিস উপহার দিতে পারে না।’ তিরমিজি থেকে মিশকাতে। অর্থাৎ পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য উত্তম রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার ও সৌজন্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে অধিক ভালো ও মূল্যবান আর কোনো উপহার-উপঢৌকন হতে পারে না।

আমর ইবনে শুয়াইব (রা.) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাত বছর বয়স হলে তোমাদের সন্তানদের নামাজ পড়ার নির্দেশ দাও এবং ১০ বছর বয়স হওয়ার পর এজন্য তাদের প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ আবু দাউদ থেকে মিশকাতে।

সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করে  তোলা উচিত। তাদের বোঝানো এবং মৌখিকভাবে তাগিদ করা সত্ত্বেও তারা যদি নামাজ পড়তে প্রস্তুত না হয় তবে তাদের ওপর প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তারা ১০ বছরে পদার্পণ করার পর তাদের বিছানা পৃথক করে দিতে হবে। তখন তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে এক বিছানায় শোয়ানো জায়েজ নয়। আল্লাহ আমাদের সবার সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য

close