শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৯

পাঠক কলাম

পেনশনারের আবেদন

পেনশনারের আবেদন

২০০৯ সালের ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি অধিদফতর থেকে আমি অবসরে যাই। এ ক্ষেত্রে বিবেচনার জন্য প্রান্তিক সময় ও একটি বিশেষ দিনের প্রতি সবার, বিশেষ করে দেশের সদাশয় নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার জন্মতারিখ ২ জুলাই, ১৯৫১; সে হিসাবে প্রচলিত প্রক্রিয়া কিংবা বিধি অনুযায়ী আমাকে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ওই একই দিন অর্থাৎ ২০০৯ সালের ১ জুলাই সরকার-ঘোষিত নতুন জাতীয় বেতনক্রম আদেশ কার্যকর হওয়ায় আমি ওই জাতীয় বেতনক্রম আদেশের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হই। সরল চিন্তা ও যুক্তির ধারণায় ২০০৯ সালের ১ জুলাই কার্যকর নতুন বেতনক্রমের সুবিধা আমার প্রাপ্য (জন্ম তারিখ ২ জুলাই, ১৯৫১ হিসেবে); যদিও প্রচলিত বিধি ভিন্নতর। স্বাধীনতা-উত্তর ঘোষিত আট-নয়টি জাতীয় বেতনক্রমের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯-এর বেতনক্রমের (বর্তমান সরকারের তৎকালীন মেয়াদে) ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির সুফল পান এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছন্দ ও সুবিধা লাভ করেন। আমি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্য পেনশনারদের তুলনায় আয়-বৈষম্যের শিকার হয়ে আর্থিক কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণায় দিনাতিপাত করছি।

বিবেচ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশে সময় সময় ঘোষিত নতুন জাতীয় বেতন স্কেল প্রচলিত নিয়মানুযায়ী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয় এবং চাকরিরতদের বেতন নির্ধারণ বা পেনশনারদের প্রাপ্য পেনশন নির্ধারণ করা হয়। আমার ক্ষেত্রে ১ জুলাই, ১৯৫১ জন্মতারিখ হওয়া সত্ত্বেও পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বেতন নির্ধারণের প্রচলিত বিধি বলবৎ রেখে ‘শুধু পেনশন নির্ধারণের’ জন্য একটি পরিপূরক বা সম্পূরক আদেশবলে পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা প্রদান করলে সরকারের যৎসামান্য আর্থিক সংশ্লেষের বিনিময়ে পেনশনার হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৈন্য ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে আমি মুক্ত হতে পারি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সময় সময় ঘোষিত জাতীয় বেতনক্রম ও বিবিধ প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিপুল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর এক উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরকারি কর্মচারীরা আগের যে কোনো সময় থেকে আর্থিক স্বচ্ছন্দ ভোগ করছেন। অবসরকালীন প্রান্তিক সীমায় জন্মতারিখ হওয়ায় আমি বা আমার মতো কিছু পেনশনার নতুন বেতনক্রমের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে কষ্ট পাবেন, এমনটা নিশ্চয়ই সরকারের কাম্য হতে পারে না।

এ অবস্থায় আমি একটি বিশেষ দিকের প্রতি সরকারের নীতিনির্ধারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন পেশ করছি। প্রচলিত বিধি পর্যালোচনা করে যৎসামান্য সংযোজন অথবা বিয়োজন করে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করলে আমার মতো বঞ্চিত পেনশনার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তিকর জীবন যাপনের সুযোগ পাবেন।

                শহীদ সাবের

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য