শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৩

রোহিঙ্গা শিবিরে এইডস

দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি

রোহিঙ্গা শিবিরে এইডস

রোহিঙ্গাদের কারণে দেশে এইচআইভি বা এইডস ও যক্ষ্মা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা নারীর একাংশ যৌন ব্যবসায় জড়িত থাকায় তাদের অনেকেই এইডসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। পুরুষের মধ্যেও অনেকেই বহুগামিতায় অভ্যস্ত এবং পরিণতিতে এইচআইভিতে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মত, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজারও হতে পারে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় বসবাসরত শরণার্থীর মধ্যে নতুন করে ৪১৩ জনের শরীরে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ ধরা পড়েছে, আর যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে ৬ হাজার ৩৭২ জন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইং থেকে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি সভার সারসংক্ষেপে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। এইডস রোগীর যে সংখ্যাটি দেওয়া হয়েছে, তার সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পর পরীক্ষায় এইচআইভির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। চিকিৎসা নিচ্ছেন না বা কোনো ধরনের পরীক্ষা হয়নি শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত এইচআইভি আক্রান্ত এমন রোহিঙ্গার সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এইচআইভি আক্রান্তের ৫০ শতাংশ জানেনই না যে তাদের এ রোগ হয়েছে। যারা জানেন, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি চিকিৎসা নেন না। এ ছাড়া যক্ষ্মাও ছোঁয়াচে। দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্ত হতে হয়। সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ না করলে এটিও মরণব্যাধি হিসেবে পরিণত হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব নারী যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছেন বা ব্যবহৃত হচ্ছেন, তাদের এইচআইভি পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক স্ক্রিনিং করে থাকে লাইট হাউস নামের একটি সংস্থা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ১ হাজার ৩৮০ জন রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৬৫ জনের এইচআইভির প্রাথমিক পর্যায় এসটিআই পজিটিভ হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরের ৬২ শতাংশই নারী ও বালিকা। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ থাকায় এইচআইভি বা এইডস দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারে এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখ। প্রতি হাজারে আটজন এইচআইভি পজিটিভ। রোহিঙ্গাদের কারণে তা বাংলাদেশের জন্যও বিপদ সৃষ্টি করতে পারে; যা নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয়দের মেলামেশা বন্ধে কড়াকড়ি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।


আপনার মন্তব্য