শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

বিদেশি নকল প্রসাধনী

প্রশাসনের কড়া নজর কাম্য

বিদেশি প্রসাধনের নামে দেশে কী বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে গভীর সংশয় দানা বেঁধে উঠেছে। মানুষ প্রসাধনী ব্যবহার করে সুন্দর হওয়ার জন্য। দেশে এখন মানসম্মত প্রসাধনী তৈরিও হচ্ছে। তার পরও যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা দেশি প্রসাধনীর বদলে বিদেশি প্রসাধনীর শরণাপন্ন হন। কয়েক গুণ দামেও কেনেন ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী। কিন্তু বাজারে পাওয়া যায় এমন বিদেশি প্রসাধনীর এক বড় অংশই নকল। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই নকল বিদেশি প্রসাধনীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রসাধনী আটক করছেন। রাসায়নিক পরীক্ষায় তা বিষাক্ত ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী যারা ব্যবহার করেন খবরটি তাদের জন্য উদ্বেগজনক। বিদেশি প্রসাধনীর জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের ঠকতে হচ্ছে। কারণ দেশেই তৈরি হচ্ছে এসব নকল প্রসাধনী এবং ব্যবহৃত হচ্ছে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। এমনকি বিদেশ থেকেও আসলের বদলে নকল প্রসাধনীর আমদানি ঘটছে। ইতিপূর্বে শুল্ক গোয়েন্দাদের আটক বিদেশি নকল প্রসাধনীতে বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব মিলেছে। রাজধানীতে বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী আটকের পর ফরেনসিক ল্যাবের পরীক্ষায়ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের সন্ধান মিলেছে। বাজারে যেসব বিদেশি প্রসাধনী পাওয়া যায়, তার একাংশের মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা আসলে স্থানীয়ভাবে তৈরি নকল পণ্য। এসব পণ্যের কৌটা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এমনকি প্যাকেজিংটাও বাইরে থেকে আনা হয়। এখানে শুধু ছোট্ট একটা মেশিন দিয়ে রিফিল করা হয়। নকল প্রসাধনী ব্যবহারে স্কিন ক্যান্সারেরও আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি ত্বকে দানা, হাঁপানি, মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়াসহ অন্যান্য রোগেরও উদ্ভব হয়। মানুষ প্রসাধনী ব্যবহার করে সুন্দর থাকার জন্য। কিন্তু নকল-ভেজাল বিদেশি প্রসাধনী ব্যবহার করে ভোক্তা শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। জনস্বার্থেই প্রসাধনী নকল-ভেজালের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল সব সংস্থাকে সক্রিয় হতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়নও জরুরি।


আপনার মন্তব্য