শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২০ ২২:৫৮

গভীর সমুদ্রবন্দর

বেগবান হবে দেশের অর্থনীতি

গভীর সমুদ্রবন্দর

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির বৈঠকে। দেশের বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর সিংহভাগ অর্থায়ন করবে জাপান। মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য বাংলাদেশকে পরনির্ভর থাকতে হবে না। একনেকের বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কোনো আবেগের জায়গা নয়, এটা প্রয়োজন। এ প্রকল্পের কিছু ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে। কারণ পায়রা ও মাতারবাড়ীর জমির কনফিগারেশন এক নয়। এ ছাড়া মাতারবাড়ীর সড়ক কোনো সাধারণ সড়ক হবে না। এগুলো হবে মূলত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল ও ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির সংযোগসড়ক ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা মানসম্মত করা হবে; যা থেকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাহিদা মেটানো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত বন্দরসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ কলম্বো ও সিঙ্গাপুর গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে। দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন হলে বড় জাহাজের নোঙর সম্ভব হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে চীনসহ বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত জাপানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে। গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে সংলগ্ন এলাকাগুলোয় শিল্প জোন গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে; যার কল্যাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দেশের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে গভীর সমুদ্রবন্দর। এটি নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য