শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৭

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের নির্দেশনা

মো. আবু তালহা তারীফ

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের নির্দেশনা

নারী জন্ম নিলেই হত্যা, তাদের ওপর অত্যাচার- নারী জাতির এহেন ক্রান্তিকালে তাদের শোষণ, অবহেলা ও নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধার করে সম্মান ও গৌরবময় জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে আবির্ভূত হন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নারীকে মানবীয় মর্যাদায় সমাসীন করেছে এবং তার মানবিক অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম। মানবজাতির যে সম্মান ও মর্যাদার ঘোষণা ইসলামে দেওয়া হয়েছে সে সম্মান ও মর্যাদা লাভের ব্যাপারে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ করা হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০। বিশ্বাসের স্বাধীনতা নারীর ব্যক্তিত্বকে সমুজ্জ্বল করেছে। ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া যিনি বিশ্বাসী ছিলেন। হজরত মরিয়ম বিশ্বাসী ছিলেন। আল্লাহর কাছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান পিতার মতো অবিশ্বাসী ছিলেন না। হজরত খাদিজা নারী হিসেবে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীর গৌরব গ্রহণ করেন। বিয়েতে নারীর অনুমতি প্রথম নেওয়া হয় এমনকি নারীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে বৈধতা পায় না। নারীর রয়েছে উপার্জন করার অধিকার এবং নিজ পছন্দমতো ব্যয় করার স্বাধীনতা। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) কুটিরশিল্পে পারদর্শী ছিলেন এবং এর উপার্জন তিনি আল্লাহর পথে দান করতেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য।’ সুরা, নিসা, আয়াত ৩২। নারী-পুরুষের যৌথ প্রয়াস একটি সমাজ রচনা করবে এটাই কাম্য। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ নারীর মানবীয় প্রকৃতি, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণ করে পক্ষান্তরে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা ও বন্ধনহীন সম্পর্ক নারীকে দুর্বল করে তোলে। তাই অশ্লীল ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবৈধ যৌন সংযোগের নিকটবর্তী হইও না, তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৩২। নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে নারীর প্রতি বৈষম্য। সহিংসতার প্রকৃতি হতে পারে শারীরিক, মানবিক ও যৌন। এসব ঘটতে পারে ঘরে অথবা বাইরে। পারিবারিক নির্যাতন ছাড়াও আমাদের দেশে ক্রমবর্ধমান হারে রয়েছে ইভ টিজিং, নারী পাচার, অ্যাসিড নিক্ষেপ, অপহরণ, যৌতুক, ধর্ষণ, হত্যার মতো অপরাধ। জন্মের দিন থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত নারী ঝুঁকির বাইরে নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী-পুরুষের নৈতিক শিক্ষা, ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান অনুশীলন প্রয়োজন। নারী-পুরুষের সম্পর্ক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন নরনারী একে অন্যের বন্ধু, এরা সৎ কাজের নির্দেশ দেয়, অসৎ কাজে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য করে।’ সুরা তওবা, আয়াত ৭১।

             লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য