শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪১

লন্ডন থেকে ফিরে বিমানবন্দরে চার ঘণ্টা

সৈয়দ বোরহান কবীর

লন্ডন থেকে ফিরে বিমানবন্দরে চার ঘণ্টা

এমিরেটসের ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামল নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই। ৪ জানুয়ারি। লন্ডনে বসেই সরকারের নতুন নিয়মের কথা শুনলাম। ১ জানুয়ারি লন্ডন থেকে যারা ঢাকায় আসবে তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সরকারি উদ্যোগে থাকলে আশকোনা হজক্যাম্প আর নিজস্ব উদ্যোগে থাকলে স্বাস্থ্য অধিদফতর নির্ধারিত সাতটি হোটেল। আমি ধারণা করলাম যারা আইন মানে তাদের জন্য হোটেলের চেয়ে বাসাই উত্তম হবে। এয়ারপোর্টে পরিচয় দিয়ে বোঝালে নিশ্চয়ই বুঝবে। আর ২ জানুয়ারি লন্ডনে করোনা টেস্ট করালাম। রিপোর্ট যথারীতি নেগেটিভ এলো। গত দুই সপ্তাহ দুবাই, লন্ডনে দেখেছি করোনা নিয়ে সতর্কতা আছে, কিন্তু বাড়াবাড়ি নেই। তাই সাহস নিয়েই লন্ডন থেকে প্লেনে চেপেছিলাম। কেন জানি না ঢাকায় বিমান অবতরণ করলেই আমার অদ্ভুত অনুভূতি হয়। মনে হয় বহুদিন পর শ্বাস নিচ্ছি। বোর্ডিং ব্রিজে উড়োজাহাজ ভেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই হাতব্যাগ নামিয়ে তৈরি হলাম। এ সময় এমিরেটসের এয়ার হোস্টেস লন্ডন থেকে আগত যাত্রীদের নাম বলা শুরু করলেন। আমরা মোট ১০ জন। এর ছয়জন বিদেশি। বোর্ডিং ব্রিজে আমাদের এক কোনায় দাঁড়াতে বলা হলো। আমি বললাম ‘এখানে যাত্রীরা নামবে, পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা। এটাই ওপরের নির্দেশ, আমাদের এখানেই দাঁড়াতে হবে। মিনিট দশেক পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন এলেন হাঁপাতে হাঁপাতে। এসেই চিৎকার করে বললেন, ‘লন্ডন করোনা, সাইডে যান, লাইনে দাঁড়ান।’ ততক্ষণে নিজেকে ভয়ংকর অপরাধী মনে হলো। মনে হলো আমি বোধ হয় সোনা চোরাকারবারি বা নিষিদ্ধ মাদক নিয়ে শাহজালালে নেমেছি।

১৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা ছেড়েছি। ঢাকা ছাড়ার আগে দুবার করোনা পরীক্ষা করালাম। ওই রাতে বিমানবন্দরে দেখলাম যাচ্ছেতাই অবস্থা। দীর্ঘ লাইন। লাইনে অপেক্ষা করে যেতে হবে হেলথ ডেস্কে। বিমানবন্দরে ঢোকার সময় তাপমাত্রা মেপে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে। তারপর হেলথ ডেস্ক ওই কাগজ আর রিপোর্ট দেখল। একটা টিকসই দিল, একটা ফরম ধরিয়ে দিল। চেক-ইনে বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশনে গেলাম। ইমিগ্রেশন অফিসার জানালেন কোনায় গিয়ে ওটা ভেরিফাই করতে হবে। দৌড়ে গেলাম সেখানে। এয়ারপোর্টে এক ঘণ্টার গলদঘর্ম অবস্থা। প্লেনে উঠে ভাবছিলাম ঢাকাতেই এ অবস্থা, দুবাইতে না জানি কী হবে।

১৭ ডিসেম্বর ভোরে নামলাম দুবাই এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩-এ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের জন্য আলাদা লেন। কিন্তু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। একটি কাউন্টারের সামনে থেকেই ফোন নম্বর জানতে চাইল। করোনা পরীক্ষার একটি কিট প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে পথ দেখিয়ে দিল। এয়ারপোর্টের কোনায় ঘেঁষে ছোট ছোট অনেক বুথ। আমার সিরিয়াল নম্বর ডাকল সঙ্গে সঙ্গেই। নাক থেকে সোয়াব নিয়ে আমাকে বিদায় দিয়ে বলল, ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তোমার রেজাল্ট মেসেজে যাবে মোবাইলে। হোটেলে চেক-ইন করার সময় শুধু বলল, রেজাল্টের আগে তুমি হোটেল থেকে বের হয়ো না। ব্যস। কী চমৎকার পদ্ধতি! কোনো হয়রানি নেই, উত্তেজনা নেই। কিন্তু ৪ জানুয়ারি ঢাকায় নেমেই মনে হলো মহাভয়ংকর পরিস্থিতি। প্রায় ১৫ মিনিট পর আমাদের বোর্ডিং ব্রিজ থেকে বাইরে আনা হলো। এরপর শুরু হলো মাথা গোনা। একজন গোনে, আবার একজন। তারপর তাদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলো। আমাদের নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে এয়ারপোর্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের বাহাস চলল। এরপর একজন টিমেতালে এসে জানতে চাইলেন ‘আপনারা লন্ডন। এক লাইনে দাঁড়ান।’ অদ্ভুত ব্যাপার। এক লাইনে দাঁড়াতে হবে কেন? এরপর আবার গণনা চলল। এভাবে ১৫ মিনিট। একজনও বলছেন না কী করতে হবে। ১৪ ঘণ্টা জার্নি করেছি। শরীরে যেটুকু শক্তি ছিল তা নিঃশেষ। এরপর আসামির মতো তাদের নির্দেশিত পথে হাঁটতে শুরু করলাম। বলে রাখা ভালো, দুবাইয়ে বিমানে ওঠার পরপরই একটা হেলথ ডিক্লারেশন ফরম দেওয়া হয়েছিল। পরম মমতায় তা পূরণ করে রেখেছিলাম। সঙ্গে আছে নেগেটিভ রিপোর্ট। বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশনের আগে একটা হেলথ ডেস্ক করেছে। সেখানে যেন উপচে পড়া ভিড়। সব যাত্রীকে এখানে হেলথ ফরম চেক করছে। আমরা লন্ডন-ফেরতরা এক কোনায় দাঁড়ালাম। অপরাধী এবং আসামিদের যেভাবে কোর্টে দাঁড়ানোর আগে দাঁড় করায়।

দীর্ঘ অপেক্ষার সময় মনে হলো দুবাইয়ের কথা। সন্ধ্যাতেই আমরা মোবাইলে মেসেজ পেলাম করোনা নেগেটিভ। দুবাই থেকে আমরা আমাদের আসল গন্তব্য লন্ডনে। তার আগে সেখানে করোনা পরীক্ষা হলো। রেজাল্ট নিয়ে এয়ারপোর্টে। শুধু চেক-ইনের সময় রিপোর্ট দেখে নিলেন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধি, ব্যস।

লন্ডনে এখন নিয়ম করেছে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে একটা অনলাইন ফরম ফিলাপ করতে হবে। এটাকে বলা হয় লোকেটার ফরম। হিথ্রো টার্মিনাল-২-এ আমরা নামলাম। বলে রাখা ভালো, হিথ্রো বিমানবন্দরে এখন মাত্র দুটি টার্মিনাল চালু রেখেছে। টার্মিনাল-২ ও টার্মিনাল-৫। হিথ্রোতে লোকেটার ফরম ছাড়া কিছুই দেখল না। ওখানে নিয়ম পাঁচ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে। হোটেল বা নিজের বাসায়। ষষ্ঠ দিনে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। এটার নাম দেওয়া হয়েছে টেস্ট টু রিলিজ। আমরা হিথ্রো থেকে নেমে স্টাটফোর্ডে হোটেলে গেলাম। হোটেল জানাল এখন টিআর-৪ (সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা) তাই সাবধানে থাকতে হবে। লন্ডনজুড়ে এখন নতুন ধরনের করোনার তান্ডব। এর মধ্যে ষষ্ঠ দিনে আমরা পরীক্ষা করালাম। নেগেটিভ।

করোনার সঙ্গে জীবন-জীবিকা এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বিশ্বের সব দেশ। সবাই বিধিনিষেধ দিয়েছে। কিন্তু বিধিনিষেধ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করে সে ব্যাপারে সতর্কতা রয়েছে, রয়েছে সাবধানতা। বাংলাদেশে যেন তার উল্টো। বাংলাদেশে বিধিনিষেধ করা হয় যেন মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য, পেরেশান করার জন্য। ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয় কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অতি উৎসাহী বাড়াবাড়ির জন্য। যুক্তরাজ্য-ফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে যা হচ্ছে। হেলথ ডেস্কে আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তার সামনে দাঁড়ালাম উড়োজাহাজ থেকে নামার ৪০ মিনিট পর। হেলথ ফরমে আমি লিখেছি যে আমি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছি। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন কোন দেশ? বললাম ইউকে। উনি আমাকে আরেকটা ফরম দিলেন। ফরমটা দেখে আমি বললাম এটা তো বিদেশি যাত্রীদের জন্য। মহিলার পেছনে দাঁড়িয়ে তদারকি করছিলেন স্বাস্থ্যের এক কর্মকর্তা। হঠাৎ তিনি চিৎকার করে উঠলেন ‘লন্ডন থেকে আসছেন, আবার এত কথা কেন?’ আমি তো বোবা। আমাকে একটা ঘিঞ্জি ঘর দেখিয়ে বলা হলো ওখানে গিয়ে বসুন। আমি বললাম পাসপোর্ট? বললেন ‘আমরা ইমিগ্রেশন করাব।’ ব্যস। আট-দশ জন বসা যায় এমন একটা ঘর। পাশে বাথরুম থেকে তীব্র গন্ধ আসছে। করোনার সময় যখন সামাজিক দূরত্ব বড় কথা তখন এভাবে রাখার সিদ্ধান্ত কার? লাল চেয়ার দেওয়া এ ঘরটিকে সহজেই হাজতখানার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিংবা হয়তো হাজতখানাই। কী হচ্ছে দেখার জন্য বাইরে দাঁড়াতেই একজন হুঙ্কার দিলেন ‘খবরদার! বের হবেন না।’ মানে কী? আমরা চোর না ডাকাত? আমাদের সঙ্গে ছয়জন বিদেশি। তাঁরা এতক্ষণ ভালোই ছিলেন। কিন্তু এবার অস্থির হয়ে উঠলেন। হচ্ছেটা কী? বোঝার চেষ্টা করলেন। একপর্যায়ে টিটকারী দিয়ে বললেন ‘দিস ইজ বাংলাদেশ!’ গাদাগাদির ছোট ঘরে আমাদের এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কী হচ্ছে আমরা কিছু জানি না। কেউ কিছু বলছে না। বিদেশ থেকে নেমে বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রার পর একজন যাত্রীর প্রথম যেটা চাওয়া তা হলো এক গ্লাস পানি। এখানে এই এক ঘণ্টা আটককালীন এক গ্লাস পানি দেওয়ার একটা লোক পাওয়া গেল না। বিদেশিরা ঠাট্টা-মশকরা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিট। উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক দুই ঘণ্টা পর আমাদের আবার গরুর পালের মতো লাইন করানো হলো। সারিবদ্ধ। আমরা যেন ভয়ংকর কোনো অপরাধী কিংবা মারাত্মক কোনো জীবাণুু বহনকারী ঘৃণিত প্রাণী। ইমিগ্রেশন থেকে বেরিয়ে লাগেজ বেল্টের দিকে হাঁটলাম। এতক্ষণ বলা হচ্ছিল আপনারা আপনাদের লাগেজ নিয়ে চিন্তা করবেন না। লাগেজ আপনাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু লাগেজ বেল্টের কাছে এসে দেখলাম ব্যাগগুলো এলোমেলো পড়ে আছে। ট্রলিতে তোলার শক্তিও নেই। কোনোমতে ট্রলিতে তোলার পর বলা হলো সব লাগেজ চেকিং হবে। সব লাগেজ তুলে স্ক্যানারে দেওয়া হলো। আমি মনে করলাম সব ঝামেলা বোধ হয় শেষ। হায়! আমি ভুল ছিলাম। ঝামেলা শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। আগমনের বাইরে এসে আবার আমাদের লাইনে দাঁড় করানো হলো। এবার আমাদের ঘিরে ফেলল নিরাপত্তা কর্মীরা। এরপর একজন এসে বললেন কী করতে হবে আমাদের। আমরা কি হজক্যাম্পে থাকব না হোটেলে? আমরা বললাম হোটেলের চেয়ে তো বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন ঢের ভালো। কিন্তু আইন তো আইন।

বাংলাদেশে কিছু অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করি। নতুন কোনো নিয়ম করলে তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়। করোনার শুরুতে যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো তখন দেখা গেল কিছু সরকারি কর্মকর্তার অতি উৎসাহ। বাইরে বেরোনো বয়স্ক মানুষকে কান ধরে উঠবস করানো হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়ার পর হইচই, নিন্দা। তারপর এ বাড়াবাড়ি বন্ধ হলো। মাস্ক পরা নিয়েও কিছু দিন চলল অস্থিরতা। এয়ারপোর্টের বাইরের করিডরে লন্ডন নিয়ে বাড়াবাড়ির আরেক অধ্যায় দেখলাম। আমরা প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। কোথায় যাব, কখন যাব? এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা এসে বললেন ‘আপনাদের পাসপোর্ট আমাদের কাছে থাকবে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে হজক্যাম্প থেকে নিয়ে যাবেন।’ বিদেশিরা এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তাদের কেউ কেউ যোগাযোগ করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনে। আইন বের করলেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তার কোনো যুক্তি নেই। আইনে কোথায় আছে তাও জানেন না। একপর্যায়ে প্রায় পালিয়ে চলে গেলেন। এরপর এলেন একজন সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্মকর্তা। চলল ঝগড়া। অবশেষে ওই কর্মকর্তা পাসপোর্ট রাখাসংক্রান্ত একটি স্বীকারোক্তিপত্র দিতে রাজি হলেন। সেই স্বীকারোক্তিপত্র তৈরি করতে লেগে গেল আরও এক ঘণ্টা। এরপর আমরা যখন গাড়ি পার্কিংয়ে এলাম তখন কেউ নেই। এ যেন বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো। আমাদের গাড়িতে ব্যাগপত্র ওঠালাম। তারপর হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলাম। ১৪ ঘণ্টা যাত্রার পর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে চার ঘণ্টা যে নাটক হলো তা এক কথায় দুঃস্বপ্নের মতো। নাম না নিয়েই বলছি, আমি যে হোটেলে উঠেছি সেখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও থাকেন। আমরা সকালে ব্রেকফাস্ট করি নিচে। এটা কি তাহলে কোয়ারেন্টাইন হলো? যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনা সংক্রমিত হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠে যে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে তা কি দেখা হচ্ছে? যাত্রীদের চরম হয়রানি, বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তির কী হাল হচ্ছে সে খবর কি আমরা রাখি? একটু সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে বিমানবন্দরে যারা এ দায়িত্ব পালন করছেন তারা একটু মানবিক, আন্তরিক হলে এ কিম্ভূত পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।

আবার দেখুন, এ লেখাটা যখন লিখছি (কোয়ারেন্টাইনে থেকে) তখন লন্ডন প্রত্যাগত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনের সময় কমিয়ে চার দিন করা হলো। কী অদ্ভুত ব্যাপার। যিনি লন্ডন থেকে আজ এলেন তিনি কোয়ারেন্টাইন করবেন ১৪ দিন। আর ১৬ তারিখে যিনি আসবেন তিনি করবেন চার দিন। যারা এসব নিয়ম-কানুন করছেন তারা মনে যা চায় তা করা বন্ধ করে একটু বিজ্ঞানমনস্ক হবেন কি? কারণ আপনাদের খামখেয়ালিতে গোটা সরকারকেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।

[email protected]

 


আপনার মন্তব্য