সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা

জমজমাট টিকা উৎসব

অর্থনীতিতেও সুফল বয়ে আনবে

শনিবার এক দিনেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭১ জন। ভিড় এড়াতে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে নাম নিবন্ধনের সুযোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অচিরেই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এ সুযোগ উন্মোচন করা হবে। করোনাভাইরাসের টিকাদানের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে অগ্রাধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ফ্রন্টলাইনের লোকজনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় তাদের এবং ৪০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য এ পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। টিকাদানের কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এ যাবৎ আবিষ্কৃত টিকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার এবং সহজে সংরক্ষণ উপযোগী টিকাই সংগ্রহ করা হয়েছে। দুনিয়ার অনেক দেশ টিকা সংগ্রহের সংকটে থাকলেও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসার দাবিদার। তবে মতলববাজদের অপপ্রচার টিকাদান শুরুর আগে কিছুটা ভয় ও সংশয় সৃষ্টি করলেও এ পর্যন্ত যে সাত লাখেরও বেশি মানুষ টিকা নিয়েছে তাদের কাছ থেকে অস্বস্তিতে ভোগার মতো বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। ফলে টিকা গ্রহণের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে গ্রামের প্রবীণদের মধ্যে আগ্রহ কম। যা নিরসনে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে ভাবতে হবে। টিকাদানে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি অবশ্যই একটি সুখবর। আশা করা হচ্ছে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের সব নাগরিককে টিকা দেওয়া সম্ভব হলে বাংলাদেশ করোনার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। জোরদার হবে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। গত এক মাসে সারা দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উন্নত বিশ্বের কোনো কোনো দেশের এক দিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুহারের চেয়ে কম। এটি দেশবাসীর জন্য ইতিবাচক হলেও বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া বিপদাবস্থা থেকে নিজেদের নিরাপদ ভাবা যাবে না। অর্থনীতির স্বার্থেও দুনিয়াজুড়ে করোনার বিরুদ্ধে মানুষের জয় কামনা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

এই রকম আরও টপিক