শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৪

অভিজিৎ হত্যার রায়

জঙ্গিবাদ দমনে আরও সক্রিয় হতে হবে

চাঞ্চল্যকর দীপন হত্যা মামলার রায় প্রদানের এক সপ্তাহ না যেতেই ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলার রায ঘোষিত হলো গত মঙ্গলবার। এ রায়ে নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের দায়ে পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। আরেক জঙ্গিকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক, জঙ্গি নেতা আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ও আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত হলেন শফিউর রহমান ফারাবী। এদের মধ্যে আসামি জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, অভিজিৎ রায়কে হত্যার উদ্দেশ্য হলো জননিরাপত্তা বিঘিœত করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ ও নিরুৎসাহ করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মত প্রকাশ না করতে পারেন। উল্লেখ্য, ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অভিজিৎ হত্যায় যে ছয়জনকে শাস্তির রায় দেওয়া হলো তার মধ্যে আরাফাত ও ফারাবী ছাড়া অন্য সবাই দীপন হত্যায়ও জড়িত ছিলেন। দুই হত্যাকান্ডেই মূল হোতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও জঙ্গি নেতা আকরাম হোসেন। তারা পলাতক থাকায় অভিজিতের স্বজন এবং ব্লগারদের মধ্যে আতঙ্ক থেকেই যাবে। ফলে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামসহ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের শিকড় উৎপাটনে দুই পলাতক আসামিকে ধরার ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সক্রিয় হবেন এমনটিই প্রত্যাশিত। মৌলবাদীদের শিখ-ী হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক শক্তি অর্জনে লিপ্ত সব জঙ্গিগোষ্ঠীর নোখর ভাঙতেও চালাতে হবে আরও তৎরপরতা। দেশের লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এ বিষয়ে কোনো শিথিলতার অবকাশ থাকা উচিত নয়।


আপনার মন্তব্য