শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২১ ২৩:১৯

নিরাপদ পানি

পানির আরেক নাম জীবন। সম্পদও। পানি ছাড়া মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা কিছুই বাঁচতে পারে না। পানিবিহীন জীবন আমরা কল্পনাই করতে পারি না। এ পানির জন্যই আমাদের শরীরে নানা ব্যাধির সৃষ্টি হতে পারে। আবার কিছু রোগ ভালোও হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সূত্রে জানানো হয়েছে, দূষিত পানি পানের ফলে প্রতি বছর গোটা বিশ্বে কয়েক লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সন্তান গর্ভে থাকাকালে দূষিত পানি পানের ফলে মায়েরা অনেক সময় বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সচেতনতার অভাবেই হোক কিংবা বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এখনো খাল, বিল, পুকুর, নদী-নর্দমার দূষিত পানি পান করে জীবন অতিবাহিত করছে।

এখনো বাংলাদেশের অনেক জায়গা আছে যেখানে এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার করতে হয়। পৃথিবীতে এমন দেশও রয়েছে যেখানে প্রতিদিন পানির জন্য অনেক মানুষকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এমন আজব দেশও আছে যেখানে তেলের মূল্যের চেয়ে পানির দাম বেশি। এমন একটি পরিবেশে জীবজন্তুর সঙ্গে মানুষেরও পচাগলা আবদ্ধ পানি পান করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন কারণে পানীয় জলের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ বৃষ্টির পানি আমরা এখন বলতে গেলে পাই-ই না। বিভিন্ন কলকারখানার জন্য বায়ুদূষণের সৃষ্টি হয়ে অম্লবৃষ্টি হয়। ফলে পানিতে বাস করা জীবজন্তুর অশেষ ক্ষতি হচ্ছে। কমে আসছে মাটির গুণ ও শস্যের উৎপাদন। হয়তো আর কয়েক বছর পর পানিসম্পদের জন্য মানুষের নিজের ওপর ধিক্কার জন্মাবে। গাছপালার মতো মানুষও শুকিয়ে মারা যাবে। বিভিন্ন কলকারখানা থেকে বিশুদ্ধ বর্জ্য পদার্থগুলো মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীরও ক্ষতি করছে। গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কীটনাশক পদার্থ, রাসায়নিক সার নদী, খাল, বিল, পুকুর ইত্যাদিতে পড়ার ফলে মাছসহ জলজ অন্যান্য জীবজন্তু আজ মৃত্যুর গহ্বরে। প্লাস্টিকের সামগ্রী, অবাধে পলিব্যাগের ব্যবহার- এসবই পানি দূষিত হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আছে সাগরে মেশানো তেলের কথা। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ভূগর্ভস্থ পানীয় জল জায়গাবিশেষ পানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আমরা একটু সচেতন হলেই সম্পদ মনে করে দূষণের হাত থেকে পানিকে বাঁচাতে পারি। বর্জ্য পদার্থ নষ্ট করে বা অন্য কাজে লাগিয়ে জিনিস বা কিছু দিয়ে ঘর সাজানোর সামগ্রী তৈরি করতে পারি। একইভাবে দূষিত পানিকে সৎকাজে লাগানোর উপায় বের করে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারি। এক ফোঁটা পানিও যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে নজর রাখতে সবাইকে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে এখন।

আফতাব চৌধুরী।