শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৮

পোশাকশিল্পের অগ্রযাত্রা

Google News

তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ এগোচ্ছে যা এক আশাজাগানিয়া ঘটনা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল পুরনো পোশাকের দেশ। উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের পুরনো পোশাক এ দেশে আমদানি হতো ব্যাপকভাবে। সে সময় নিম্নবিত্তদের কাছে নতুন পোশাক পরা ছিল প্রায় অকল্পনীয় বিষয়। মধ্যবিত্তরাও বিদেশি পুরনো পোশাক পরে সাধ মেটাত। পাঁচ দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশের লড়াই এখন ভিয়েতনামের সঙ্গে। দ্বিতীয় স্থানটিতে কখনো বাংলাদেশ কখনো ভিয়েতনাম ঠাঁই করে নিচ্ছে কয়েক বছর ধরে। করোনা মহামারীতে পোশাকশিল্প মার খেলেও বাংলাদেশ ভিয়েতনামকে সরিয়ে দ্বিতীয়তে স্থান করে নিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে তৈরি পোশাকশিল্প। বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী ৩০ বছর আগে ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছিল ৪ লাখের মতো। ২০০২-০৩ থেকে ২০০৪-০৫ পর্যন্ত শ্রমিক ছিল ২০ লাখ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ লাখে। আর বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৪৪ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যার প্রায় ৭০ শতাংশই নারী। গত ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ভারতের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। এ ঘাটতি পুষিয়ে গত বছর দেশটিকে ধরে ফেলেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উঠতি অর্থনৈতিক শক্তি এখন বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো রপ্তানিই বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি। এ রপ্তানি বাড়ার অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। আত্মপ্রসাদের বদলে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার যে সম্ভাবনাগুলো রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। বিশেষত মানসম্মত বা দামি তৈরি পোশাকের বাজার দখলে ব্রতী হতে হবে।

অপূর্ব আজাদ।