শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ২৩:১৪

দেশি মাছের উৎপাদন

সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে

Google News

এই মহামারীকালে বাংলাদেশের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক একটি খবর প্রকাশিত হলো গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পৃষ্ঠায়। দেশি মাছের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ। বিশ্বের যেসব দেশে মাছ উৎপাদনের হার বাড়ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় থেকে এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে পুকুর ও ছোট জলাশয়ে মাছ চাষের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি। এ ক্ষেত্রে দেশের মৎস্যবিজ্ঞানীদের বিরাট অবদান রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তপ্রায় অনেক দেশি প্রজাতির মাছের আধুনিক চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং চাষিরা সেগুলো উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন বলে ওই মাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। মাছ আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর আমিষ চাহিদা পূরণ করে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মোট প্রাণিজ আমিষ চাহিদার অর্ধেকের বেশি এখন পাওয়া যাচ্ছে মাছ থেকে। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় ৬৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে ২৯টির বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সফলতায় যুক্ত হয়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির পিয়ালি মাছ। বিজ্ঞানীরা পিয়ালিসহ ২৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, বাটা, ফলি, মহাশোল, খলিশা, বৈরালি, ঢেলা, বাতাসি অন্যতম। বাজারে এসব মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই। ইতিমধ্যে মাছের জিন সংরক্ষণে ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যমুনা ও পদ্মা বিধৌত এলাকায় বসবাসরত মানুষের কাছে পিয়ালি মাছ অতি পরিচিত। এ মাছের স্বাদ মানুষের মুখে মুখে। পিয়ালি মাছ দ্রুতবর্ধনশীল, খেতেও সুস্বাদু। এ মাছ আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম ও লোহাসমৃদ্ধ। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে এ মাছ অত্যন্ত কার্যকর। সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ভোক্তাপর্যায়ে অনেক প্রজাতির মাছ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যেন মাছের দাম সর্বসাধারণের নাগালের মধ্যে থাকে।

এ ছাড়া মাছের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে।