শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০২১ ২২:৫৮

সুখ-দুঃখ আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত

মুফতি আইনুল ইসলাম কান্ধলবী

সুখ-দুঃখ আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত
Google News

দুনিয়ায় মুসলমানদের কেন কষ্ট-ক্লেশে রাখা হয়? মুসলমানদের বিপদাপদ কেন হয়? আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের জন্য জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন, এ জান্নাতের জন্য আমাদের যা চেষ্টা-মেহনত করা দরকার ছিল তা আমরা না করার কারণে আল্লাহতায়ালা বাধ্যতামূলক আমাদের দ্বারা করিয়ে নেন। নিজের ইচ্ছায় জান্নাত পাওয়ার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা আমাদের করা দরকার ছিল সেখানে অনেক ত্রুটি থেকে যাচ্ছে, তাই আল্লাহতায়ালা নিজ থেকে মুসলমানদের ওপর কিছু চেষ্টা-মুজাহাদাকে চাপিয়ে দেন যাতে জান্নাত অর্জনের মতো প্রয়োজনীয় কাজটা পূর্ণতা পায়। তাই এ রকম কষ্ট-ক্লেশ মুসলমানদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করা জরুরি। হাদিসে রসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, দুনিয়া হলো মোমিনের জন্য কারাগারস্বরূপ আর কাফিরদের জন্য জান্নাত। কাফিরদের জন্য পরকালে জান্নাত নেই, পরকালে কখনো তারা সুখের মুখ দেখতে পাবে না। তাই দুনিয়ায় তাদের কিছু সুখ-শান্তি দিয়ে দেওয়া হয়। আমরা মুসলমানরা যেমন ভালো কাজ করি, তদ্রƒপ অমুসলিমরাও দুনিয়ায় অনেক ভালো কাজ করে, তারা অনেক রকম সমাজসেবা করে, অনেক মানুষের উপকার করে, অনেক সত্য কথা বলে, ন্যায়নীতির ওপর চলে। এসব ভালো কাজের বদলা যেহেতু পরকালে তারা পাবে না, তাই দুনিয়ায় তাদের কিছু সুখ-শান্তি দিয়ে দেওয়া হয়। একবার রসুলে কারিম (সা.) খেজুরের রশি দিয়ে তৈরি খাটের ওপর শুয়েছিলেন, দেহে রশির দাগ পড়েছিল। আল্লাহর প্রিয় হাবিব (সা.) যাকে সৃষ্টি না করলে এ আসমান, জমিন, জান্নাত, জাহান্নাম কোনো কিছুই সৃষ্টি করা হতো না। নবী কারিম (সা.)-এর এ কষ্টের অবস্থা দেখে হজরত ওমর (রা.) কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমরা মুসলমানরা এত কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে কেন? রোম-পারস্যের সম্রাট তথা কাফিররা কত সুখস্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে আছে, কত আরাম-আয়েশের মধ্যে আছে, আর আমরা এ কষ্টের মধ্যে আছি। উত্তরে নবী (সা.) বললেন, ওরা তো কাফির সম্প্রদায়, ওদের সব ভালো কাজের বদলা দুনিয়াতেই দেওয়া হয়। এখানে বোঝানো হলো তাদের যা পাওয়ার তা শুধু দুনিয়াতেই পেয়ে থাকে। অন্যদিকে মুসলমানদের জন্য রয়েছে পরকালে অনন্ত সুখ-শান্তি। তাই বেদীন-কাফিরদের দেখে ধোঁকায় পড়া যাবে না যে তবে কি মুসলমানরা ভালো নয়? মুসলমানদের কি আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না? এ রকম ধোঁকায় পড়া যাবে না। আল্লাহতায়ালা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, দেশে দেশে কাফিরদের বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। তাদের স্বদম্ভ বিচরণ, তাদের সচ্ছল বিচরণ, তাদের সচ্ছল অবস্থা দেখে তোমরা যেন ধোঁকায় পড়ে না যাও। এটা তো দুনিয়ার সামান্য ভোগ মাত্র। তারপর তাদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম। তারা দুনিয়ায় পাওয়ার বিনিময়ে জাহান্নামে যাবে। তখন তারা আফসোস করে বলবে, যদি দুনিয়ায় কিছুই না পেতাম আর আজ যদি নাজাত পেতাম। আর মুসলমানরা বলবে দুনিয়ায় যদি শুধু কষ্টই পেতাম তবে আরও ভালো হতো, আজকে জান্নাতে আরও বদলা পেতাম, আরও উঁচু মর্যাদা পেতাম। দুনিয়ার সুখ-শান্তি আমাদের মোটেও দরকার ছিল না। যতটুকু ছিল তা না থাকলেও চলত। তাই বেদীন-কাফেরদের সুখ-শান্তি দেখে ধোঁকা খাওয়া যাবে না। আর দুনিয়ায় তারা অনেক কিছু পেলেও এটা আসল নয়, আসল হলো পরকালের পাওয়া। দুনিয়ায় যা পাওয়া যায় তা খুবই নগণ্য। নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, পরকালের তুলনায় দুনিয়ার সব সুখ-শান্তি, ধনসম্পদ একটা মশার ডানার সমপরিমাণও নয়। যদি আল্লাহতায়ালার কাছে মশার ডানার সমপরিমাণ মূল্য থাকত তাহলে কাফিরদের তিনি কিছুই দিতেন না। এমনকি এক ঢোক পানি পর্যন্ত পান করতে দিতেন না। পরকালের সঙ্গে দুনিয়ার কোনো তুলনাই হয় না। সুতরাং মোমিনরা যদি কোরআন ও হাদিস মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে তবে দুনিয়া ও আখিরাতে সুফল পেতে সহজ হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : খতিব, পূর্ব বাড্ডা পুরাতন জামে মসজিদ, ঢাকা।