রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা

মধ্যমণিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী আর অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি আর্মি জেনারেল

প্রতিদিন ডেস্ক

দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে (চীন ছাড়া) ‘ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের কল্যাণে কাজ করছে’ ভঙ্গি নিয়ে মানবতাবাদীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর আত্মসাৎ করার কাহিনি ফাঁস করে দেয় এশিয়ার প্রথম ডিসইনফো ল্যাব নামক ডিজিটাল গবেষণা সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ভুয়া সংবাদ আর প্রচারণার ব্যাপারগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা। এ পর্যায়ে তারা সম্প্রতি ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা প্রতারণায় লিপ্ত তাদের কুকীর্তি প্রকাশ করে এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান সম্বল করে বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এক লে. জেনারেল কী কী অনাচার করেছেন তার বর্ণনা দেয়। ‘দাতব্যশিল্প : কভিড সাহায্য প্রতারণা’ শীর্ষক সে প্রতিবেদন ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৪ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে। আজ সপ্তম কিস্তি উপস্থাপন করা হলো-

বিস্তৃতি জাল : জৈব না কৃত্রিম সাধারণ যোগসূত্র কেবল তাদের পরিবর্তনশীল সদস্যদের থেকে স্পষ্ট নয় বরং এ ফ্রন্টগুলোর সামাজিক মাধ্যমের প্রকৃতি থেকেই স্পষ্ট। ওপরের লেখচিত্র মুসলিম এইড চ্যাপ্টারসমূহের সামাজিক মাধ্যমে জনবিস্তৃতি ও অনুসরণকারীদের গতিপ্রকৃতির সম্যক ধারণা দেয়। অনুগামীদের দ্বারা সমর্থিত বিষয় বা অনুমোদনের ওপর কোনো কোনো সময় স্বীকৃতির নিক্তি কাজ করে। এটা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে যাচাইকৃত ও বড় টুইটার অ্যাকাউন্টগুলো এ ধরনের হ্যান্ডলগুলোকে এক ধরনের আইনগত বৈধতা দেয়। উদাহরণস্বরূপ প্রদত্ত লেখচিত্র থেকে মনে হতে পারে মুসলিম এইড ইউকের টুইটার অ্যাকাউন্টটির অনুগামীদের যাচাইকৃত ও বড় অ্যাকাউন্টের তুলনায়।

মুসলিম এইড চ্যাপ্টারগুলোর বিশেষত মুসলিম এইড পাকিস্তান এবং মুসলিম এইড ইউকে সাধারণ হ্যান্ডলগুলো এটা নির্দেশ করে যে চ্যাপ্টারগুলো একই হ্যান্ডল দ্বারা পরিচালিত ও প্রচারিত।

অনুদান শিল্পের কেন্দ্রস্থল : যেহেতু মুসলিম এইডের সব ফ্রন্ট ও চ্যাপ্টার পরস্পর সংযুক্ত, পাকিস্তানে অবস্থিত ফ্রন্টটি যে এটার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়স্থল তা বোঝা কঠিন নয়। একই ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশে অবস্থিত শাখার নেতৃত্বে থাকায় এবং নিজেদের মধ্যে রদবদলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় এটা প্রামাণ্য যে পুরো নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানে। যা হোক, সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন মহাদেশ থেকে বিভিন্ন রকম সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, তহবিল সংগ্রহের আপাত প্রক্রিয়া প্রায় সবারই একই রকম।

জাকির নায়েক সংশ্লেষ : মুসলিম এইড ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ভারতের কিছু বিতর্কিত সংগঠনেরও মুখ্য ব্যক্তিত্ব যেমন জাকাত ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া, ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, আল ফৌজ ট্রাস্ট ও পিস টিভি। মুসলিম এইড ইউকের এক মুখ্য ব্যক্তিত্ব আহমদ জাফর হুসাইন কোরেশি ভারতীয় পিস টেলিভিশনেরও একজন ট্রাস্টি। পাশাপাশি তিনি ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ছিলেন ২০০৭-১৬ সাল পর্যন্ত। এ ফাউন্ডেশন ডা. জাকির নায়েকের মালিকানাধীন। ডা. জাকির নায়েক ভারতের বিভিন্ন শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা মামলায় পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি। একইভাবে মুসলিম এইড অস্ট্রেলিয়ার মুখ্য প্রচারাভিযান কর্মকর্তা ডা. বিল্লাল ফিলিপস ডা. জাকির নায়েকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি নিয়মিত পিস টিভিতে বক্তা হিসেবে উপস্থিত হন। এরা দুজন আবার ইসলামিক এডুকেশন রিসার্চ একাডেমির উপদেষ্টা।

আল ফৌজ ট্রাস্ট : মোহাম্মদ জাফর হুসাইন কোরেশি হলেন আল ফৌজ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মুতাসসাল আব্বাসি পিস টেলিভিশনের অন্যতম পরিচালক।

জাকাত ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া : মুসলিম এইড ইউকের সদস্য জাফর হুসাইন কোরেশি হলেন জাকাত ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ জাফর মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দুজনই জাকাত ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়ার (ইন্টারন্যাশনাল) ইউকে কার্যালয়ে কাজ করেন। জাকাত ফাউন্ডেশন হলো মদিনা ট্রাস্ট ইউকের অন্যতম তহবিল গ্রহণকারী। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বিদেশি তহবিল মদিনা ট্রাস্ট ও মুসলিম এইড ইউকে থেকে গ্রহণের অভিযোগে ডা. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান।