শিরোনাম
বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

পঞ্চাশোর্র্ধ্বদের বুস্টার ডোজ

স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রেও কঠোর হতে হবে

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ বইছে। সংক্রমণ যাচাইয়ে মানুষের আগ্রহ কম থাকায় বেশির ভাগ মানুষ আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের তালিকা হিসাবে আসছে না। সান্ত্বনা এতটুকু, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সিংহভাগই খুব একটা শারীরিক কষ্টে ভুগছেন না। মৃত্যুর হারও সীমিত। তার পরও সরকারের পক্ষ থেকে বিপদ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিকার বুস্টার ডোজ আগে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ষাটোর্ধ্বদের, এখন পঞ্চাশোর্ধ্বরা তা পাবেন। উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, দেশজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্তের ঘটনা। আবহাওয়ার পারদ নামতেই ঠান্ডাজ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথায় আক্রান্তের হার বেড়েছে। এ ধরনের রোগীর করোনা টেস্ট করালে বেশির ভাগেরই পজিটিভ আসছে। কিন্তু অনীহার কারণে টেস্ট করাতে যাচ্ছে না অধিকাংশ মানুষ। উপসর্গ থাকলেও শনাক্ত না হওয়ায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ৮৫৫টি আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ল্যাবরেটরিতে করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। বর্তমানে করোনার সংক্রমণ বাড়লেও নমুনা পরীক্ষা করাতে যাওয়া আগ্রহী লোকের সংখ্যা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় নমুনা কম সংগ্রহ হচ্ছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীর মধ্যেই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি হচ্ছে। করোনার নতুন ধরন অপেক্ষাকৃত কম বিপজ্জনক হলেও এটি যে ভয়াল রূপে আবির্ভূত হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যেমন জরুরি তেমন উপসর্গ থাকলেই করোনার টেস্ট করা উচিত। সর্দি- কাশি-জ্বরে আক্রান্তদের উচিত অন্যদের থেকে দূরে থাকা। হাটবাজার এবং ধর্মীয় উপাসনাগারগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালিত হলে সংক্রমণ অনেকাংশে রোধ করা যাবে। মানুষের জীবন ও অর্থনীতির জন্য করোনা নামের মহামারি যে হুমকি সৃষ্টি করছে তা সামাল দিতে সতর্কতার বিকল্প নেই।

সর্বশেষ খবর