শিরোনাম
শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

শীতার্ত অসহায় মানুষের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন

মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী

শীতার্ত অসহায় মানুষের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে দেশজুড়ে, জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত। শীতে কাঁপছে দেশ, চরম ভোগান্তিতে সারা দেশের ভাগ্যহত হতবিহ্বল অসহায় দরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে শিশুদের কষ্টের শেষ নেই। মানুষ তো মানুষের জন্যই। তাই এ সময় আসুন! আমরা অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াই। একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে শুরু করেছে। গরম কাপড়ের অভাবে অসহায় মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না। সমাজের উচ্চস্তরের মানুষ, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে একটু মমতার দৃষ্টি দিলে তারা আরামে ঘুমাতে পারে। বেঁচে যাবে প্রচণ্ড শীতের কষ্ট থেকে।

শীতার্ত মানুষ কতটা দুর্বিষহ জীবনযাপন করে তা শহর, নগরীর ফুটপাত, ওভারব্রিজ, মার্কেটের বারান্দা, রেলস্টেশন, বাস স্টেশনসহ যত্রতত্র প্রচণ্ড শীতে কুকুরের সঙ্গে মানুষের রাতযাপনের ভয়াবহ দৃশ্য, সেখানে না গেলে বোঝা মুশকিল। মানবতার সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ। তাই আসুন শীতার্ত মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাপনে ব্যথিত হয়ে, তাদের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই, তাদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করি। আমাদের একটু সহায়তা, লাঘব করতে পারে, তাদের অসহনীয় কষ্ট ও দুর্বিষহ জীবন। প্রচণ্ড শীতের তুলনায় অসহায় গরিব মানুষের প্রস্তুতি অপ্রতুল। তাই ইসলাম, অসহায় ও দুস্থ মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। যার অন্তরে দয়ামায়া আছে এবং যে পরোপকারী হয়, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা কর এবং বন্দিকে মুক্ত করে দাও। ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত কর।

সৃষ্টির সেবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় নেকির কাজ, কেয়ামতের ময়দানে এ সামান্য উসিলা নিয়ে, অনেকেই জান্নাতি হবে এবং জাহান্নাম থেকে বেঁচে যাবে। শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান, বিত্তশালী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মীদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পরিমাণে সাধ্যমতো শীতার্তদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার। সামান্য ভালোবাসাও অসহায় শীতার্ত মানুষকে একটু উষ্ণতার পরশ ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে পারে। দুস্থ মানুষের দুর্দিনের সাহায্য, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মানসিকতা যাদের নেই তাদের মনে রাখতে হবে প্রবাদবাক্য-নদীর এপার ভাঙে ওপার গড়ে এই তো নদীর খেলা, সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা। সার্বিকভাবে সহযোগিতা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে আল্লাহতায়ালাও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগলকে দৃঢ় করে দেবেন। তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, তোমরা খোদাভীতি এবং নেক কাজে একে অপরকে সাহায্য কর এবং গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাহায্য করিও না। এক্ষেত্রে আমরা একটু নিজেদের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি, আমরা কতটা অপব্যয়ে লিপ্ত আছি। আমাদের ঘরে প্রয়োজন অতিরিক্ত বিভিন্ন ধরনের দামি দামি, পছন্দনীয় শীতবস্ত্রের অভাব নেই, নতুন-পুরনো দেশি-বিদেশি শীতবস্ত্রের বিশাল সম্ভার। পছন্দের চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। বিনা প্রয়োজনে সীমাহীন অপব্যয়। অথচ মানবতার সেবায় আমরা প্রচণ্ড বখিল ও কৃপণতা প্রকাশ করি। যা আল্লাহতায়ালার কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। হাদিস শরিফে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন হে আমার বান্দারা! আমি অসুস্থ ছিলাম তোমরা সেবা করনি, ক্ষুধার্ত ছিলাম খাদ্য দাওনি, পিপাসার্ত ছিলাম পান করাওনি, শীতার্ত ছিলাম, গরম বস্ত্র দাওনি, বান্দারা বলবে হে আল্লাহ আপনি তো এগুলোর ঊর্ধ্বে, আমরা আপনার সেবা কীভাবে করব। আল্লাহতায়ালা বলবেন, আমার বান্দাদের অনেকেই অসুস্থ ছিল, ক্ষুধার্ত ছিল, পিপাসার্ত ছিল, শীতার্ত ছিল, তাদের যদি তোমরা চিকিৎসা, খাদ্য, পানি ও শীতবস্ত্র দিয়ে সেবা দিতে, তাহলে আমাকেই তা দেওয়া হতো। নবী (সা.) অন্যত্র ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা ওই ব্যক্তির ওপর রহম করেন না, যে মানুষের ওপর রহম করে না। নবীজি আরও ইরশাদ করেন, তোমরা জমিনবাসীর ওপর রহম কর, তবে আকাশের মালিক আল্লাহতায়ালা তোমাদের ওপর রহম করবেন। সরকারি-বেসরকারিভাবে রাষ্ট্রীয় সতর্কতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট থেকে বেঁচে থাকার উপায় অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু গরিব-অসহায় বৃদ্ধ মানুষগুলোর বেঁচে থাকার কী উপায়? এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সর্বাত্মক কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের বিত্তবানদের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষের ওই পারস্পরিক মানবতাবোধ ও উদার নৈতিক মনমানসিকতা থাকা আবশ্যক। একজন বিপদে পড়লে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করা সমাজের বিত্তবান প্রতিবেশীদের ইমানি দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য। আমাদের উচিত সমগ্র সৃষ্টির প্রতি দয়ামায়া, অকৃত্রিম ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহানুভূতি সর্বদা বজায় রাখা। তাই দেশের সর্বস্তরের ধনাঢ্য, বিত্তবান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ রেখে দলমতনির্বিশেষে এই শীতের মৌসুমে গরিব-অসহায় দুঃখী মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী, অর্থ, চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য ও বস্ত্র দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন অটুট রাখি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

লেখক : ইমাম ও খতিব কাওলার বাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

সর্বশেষ খবর