‘আমি বাংলা আস্তে আস্তে শিখছি, আমার মেয়ে-খালা এরা শেখায়। আমার হাসবেন্ড ভালো মানুষ, ইঞ্জিনিয়ার বুয়েট। আমার হাসবেন্ড এর জন্য ধানের শীষে ভোট দিন’- এভাবেই গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থীর বিদেশি বধূ। আর সামনে বসে ভাঙা ভাঙা আধো বাংলায় কথা বলতে শুনে হেসে কুটিকুটি হচ্ছেন গ্রামের নারী ও শিশুরা।
নামমাত্র দুয়েকটা সাদাকালো পোস্টার আর ব্যানার ভোটারের মনে আনন্দের খোরাক জোগাতে না পারলেও সেই কাজটি দারুণভাবে করছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের চীনা স্ত্রী ওয়াং লিনা। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি চাইনিজ ভাবি, আর সাধারণ ভোটাররা ডাকছেন ‘জাকেরের বউ’ বলে।
শনিবার দুপুরে ওয়াং লিনা প্রচারণা চালান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর-রাতুলপাড়া এলাকায়। সেখানে সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে ঢল নেমেছে শিশু-কিশোরদের। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের দল ছুটছে বিদেশি বউ দেখতে। এতে ধানের শীষের প্রচারে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা।
বাংলাদেশের প্রান্তিক গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালাতে কেমন লাগছে? উত্তরে ওয়াং লিনা বলেন, খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষ খুব ফ্রেন্ডলি। তারা আমার নাম জানতে চায়। আমি কী খেয়েছি, কখন এসেছি সেসবের খোঁজ নেয়।
এদিন ওয়াং লিনার সঙ্গে প্রচারে এসেছেন জাকির সরকারের মামাতো ভাবি রোখসানা পারভীন জোনাকি। তিনি বলেন, ওয়াং লিনার জন্য আমরা ভোটের মাঠে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। আমি বাঙালি, এটা আমার ইউনিয়ন। আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে যতটা মিশতে পারছি না। ও তার চেয়েও বেশি মিশে যাচ্ছে। সবাই ওকে খুব ভালোবাসছে। ঘরে বসানো, খাওয়ার জন্য সবাই খুব চেষ্টা করছে। আর শিশুরা তো পিছুই ছাড়ছে না।
ভোটের প্রচার দেখে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন অষ্টাদশী এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ঘর থেকে শুনলাম জাকেরের বউ আসছে। তাই দেখতি আলাম। খুব ভালো বউ। হেসে হেসে কথা বলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, তার মাধ্যমে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানো আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। সে যেহেতু বিদেশি, সেও চাচ্ছে আমাদের দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দুইয়ে মিলে প্রচারে নতুন মাত্রা আসছে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জাকির হোসেন সরকারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আমির হামজা।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল