শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৬

অস্কার না পেয়েও আলোচনায় যারা...

আলী আফতাব

অস্কার না পেয়েও আলোচনায় যারা...

ঠিক যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তেমনটাই হয়েছে অস্কারের বিজয় তালিকা। সাম্প্রতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলোতে যেসব নাম উঠে এসেছিল, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেরা অভিনেতা, অভিনেত্রী, সহ-অভিনেতা, সহ-অভিনেত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চমক নেই। প্রত্যাশিত নামের হাতেই উঠেছে অস্কার ট্রফি।

কিন্তু সব পুরস্কারের শীর্ষে যে সম্মান, সেখানে কিছু ব্যতিক্রম তো থাকবেই। সেই ব্যতিক্রমের নাম ‘প্যারাসাইট’। এই প্রথম কোনো বিদেশি ভাষার সিনেমা অস্কারে সেরা সম্মান পেল। বং জুন-হো সেরা পরিচালকও হয়েছেন। চারটি অস্কার পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার এই ছবির পুরস্কৃত হওয়ার নেপথ্যের কারণ কি রাজনীতি? উঠছে এমন প্রশ্নও। গেল বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বর্ণ পাম’ পেয়েছিল ‘প্যারাসাইট’। ‘দ্য লস্ট উইকেন্ড’ ও ‘মার্টি’র পর ‘প্যারাসাইট’ তৃতীয় ছবি, যা একই সঙ্গে স্বর্ণ পাম ও অস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার জিতল। এবার অস্কারে সবচেয়ে ব্যথিত হয়েছে সম্ভবত ‘জোকার’ পরিবার। সিনেমাটির ঝুলিতে ছিল সর্বোচ্চ ১১ মনোনয়ন। কিন্তু সেরা অভিনেতা হিসেবে হোয়াকিন ফিনিক্স ছাড়া আর কোনো পুরস্কার ছবিটির ভাগ্যে জোটেনি। গোল্ডেন গ্লোব আর বাফটায় রাজত্ব করলেও অস্কারের মঞ্চে হতাশ হতে হয়েছে পরিচালক স্যাম মেন্ডেসের ‘১৯১৭’-কেও। চলচ্চিত্রটি যে তিনটি পুরস্কার জিতেছে তার সবকটিই কারিগরি ক্যাটাগরিতে। এ ছাড়া ১০টি করে মনোনয়ন পেয়েও হতাশ হয়েছে ‘দ্য আইরিশম্যান’ ও ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড’। চলচ্চিত্রকার পেদ্রো আলমদোভারের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ আলোচনায় থাকলেও অস্কারে একদমই সুবিধা করতে পারেনি।

মনোনয়নের তালিকায় শুধু সাদা চামড়ার মানুষদের নাম থাকায় একবার আওয়াজ উঠেছিল ‘অস্কার ইজ হোয়াইট’। এবারের ধ্বনি ‘নো ভ্যাজাইনা’। কারণ, সেরা পরিচালকের মনোনয়নে কোনো মহিলা নির্দেশকের নাম ছিল না। অথচ একাধিক মহিলা পরিচালকের ছবি উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে এ বছর। উপস্থাপকরা সেরা পরিচালক ঘোষণার সময় এ নিয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষকে একচোট ঠুঁকেও দেন।

তবে স্টাইলিশ প্রতিবাদে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নাটালি পোর্টম্যান। তার ডিয়রের ব্ল্যাক ক্যাপে লেখা ছিল আটজন মহিলা পরিচালকের নাম। রেড কার্পেটে নাটালি বলেন, ‘আমি তাদের চেনাতে চাইছিলাম, যাদের চিনতে চাওয়া হয়নি।’ গ্রেটা গারউইগের ‘লিটল ওম্যান’ বেশ কয়েকটি বিভাগে মনোনীত হলেও সেরা পরিচালকের দৌড়ে গ্রেটার নাম ছিল না। বর্ণবৈষম্যের বিভাজন ঘোচাতে একাডেমি কর্তৃপক্ষ খানিক সফল হয়েছে। এবার কি তারা লিঙ্গবৈষম্য ঘোচাতে পারবে? দর্শকের চোখ আগামী অস্কারে।

 

‘নাইনটিন সেভেনটিন’ সিনেমার একটি দৃশ্য

 

পুরস্কার বঞ্চিত যারা...

ছবি

 

এই বিভাগে মনোনয়ন পায় মোট আটটি ছবি। এগুলো হলো-‘ফোর্ড ভার্সেস ফেরারি’, ‘দ্য আইরিশম্যান’, ‘জোজো র‌্যাবিট’, ‘জোকার’, ‘লিটল ওম্যান’, ‘ম্যারিজ স্টোরি’, ‘নাইনটিন সেভেনটিন’, ‘ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড’।

 

অভিনেতা

এই বিভাগে মনোনয়ন পান-অ্যান্টোনিও ব্যান্ডেরাস (পেইন অ্যান্ড গ্লোরি), লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড), অ্যাডাম ড্রাইভার (ম্যারিজ স্টোরি) ও জোনাথন প্রাইস (দ্য টু পোপস)।

 

অভিনেত্রী

এই বিভাগে মনোনয়ন পান-সিনথিয়া আরভিও (হ্যারিয়ট), স্কারলেট জোহানসন (ম্যারিজ স্টোরি), সিয়োর্স রোনান (লিটল ওম্যান), শার্লিজ থেরন (বম্বশেল)।

 

পরিচালক

এখানে মনোনয়ন পান- টড ফিলিপস (জোকার), মার্টিন স্করসেজি (দ্য আইরিশম্যান), স্যাম মেন্ডেস (নাইনটিন সেভেনটিন), কোয়ান্টিনো টরান্টিনো ‘ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড’।

 

সহ-অভিনেতা

এই বিভাগে মনোনয়ন পান- টম হ্যাঙ্কস (অ্যা বিউটিফুল ডে ইন নেইবরহুড), অ্যান্থোনি হপকিংস (দ্য টু পোপস), আল পাচিনো (দ্য আইরিশম্যান), জো পেসি (দ্য আইরিশম্যান)।

 

সহ-অভিনেত্রী

এই বিভাগে মনোনয়ন পান- পানক্যাথি বেইটস (রিচার্ড জুয়েল), স্কারলেট জোহানসন (জো জো র‌্যাবিট), ফ্লোরেন্স পিউ (লিটল ওম্যান) ও মার্গট রবি (বম্বশেল)।

 


আপনার মন্তব্য