চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্রেম করতেন সিয়া গোয়েল। কিন্তু পরিবার তার বিয়ে ঠিক করেছিল ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে। বিয়েতে মত না থাকলেও পরিবারের মুখের ওপর ‘না’ বলার সাহস ছিল না সিয়ার।
পরিবারের মর্যাদার কথা ভেবে বাগদান ও বিয়ের আয়োজনে তাল মিলিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মনে মনে আঁটছিলেন ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। পরিবারের মতের বিরুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে হবু বরকে হত্যা করাটাই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল।
প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে গত ১৮ জুন সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করেন সিয়া। দু'জন মিলে পুনের লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা করেন কেতন আগরওয়ালকে।
চেতন চৌধুরী বিয়ের জন্য সিয়ার কাছে ৩ বছর সময় চেয়েছিলেন। এ সময়ে নিজের ব্যবসা গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সিয়ার ধারণা ছিল, কেতন লোহাগড় দুর্গে পা পিছলে পরে মারা গেছেন, এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাদের সব ঝামেলা মিটে যাবে। দূর হয়ে যাবে তাদের প্রেমের বাধা। শোকে কাতর পরিবারও শিগগিরই তার বিয়ের কথা আর তুলবেন না। এই সুযোগে চেতন তার ব্যবসা গোছাবে, সিয়াও নিজের বেকারির ব্যবসা এগিয়ে নেবে। বছর তিনেক পর বিয়ে করলে তখন তারা মোটামুটি স্বচ্ছলতার সঙ্গে সংসার শুরু করতে পারবেন। ততদিনে কেউ আর তাদের সন্দেহও করবে না।
কেতন আগরওয়াল ছিলেন পুনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। তার বাবা বিশাল আগরওয়াল আবাসন প্রতিষ্ঠান সাকসেস গ্রপের প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশে পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে কেতনও বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। তিনি ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার।
গত ফেব্রুয়ারিতে সিয়ার সঙ্গে কেতনের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে জয়পুরে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। সে জন্য ১৭ কোটি রুপিতে প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। সিয়া নিজেদের ভবিষ্যত গোছাতে কেতনের বিত্তের সহায়তাও নিয়েছিলেন। কেতন বিয়ের শপিং করার জন্য সিয়াকে ১ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। কিন্তু শপিং না করে সিয়া পুরো টাকাটা তুলে দেন প্রেমিক চেতন চৌধুরীর হাতে। এ টাকায় চেতন তার ব্যবসা আরো বড় করার পরিকল্পনা করছিলেন।
কিন্তু নিখুঁত পরিকল্পনা করেও বাঁচতে পারেননি তারা। কেতনকে হত্যার অভিযোগে সিয়া-চেতন দুজনই এখন পুলিশ রিমান্ডে।
বিডি প্রতিদিন/এম.এস