শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৭

চতুর্থ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অচলাবস্থা

চতুর্থ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আংশিক অচলাবস্থা চলছেই। চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও কোনো পক্ষই ছাড় না দেওয়ায় শিগগিরই সংকট নিরসনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কাছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু আইন প্রণেতারা তাকে সাকুল্যে সোয়া বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি দিতে রাজি। এই মতবিরোধের জের ধরেই ডিসেম্বরের ২২ তারিখ থেকে এ অচলাবস্থা শুরু হয়। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগ থেকেই ট্রাম্প সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে আসছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছে, জনগণের করের টাকায় তারা প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্র“তি পূরণের অযৌক্তিক দাবিতে অনুমোদন দেবে না। এতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমেরিকার প্রায় ৮ লাখ কর্মী। তাদের অনেকে একটানা ২৪ দিন ধরে বিনা বেতনে কাজ করছেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার থেকে শুরু করে গোয়েন্দারাও বিনা বেতনে কাজ করছেন। অনেককে আবার ছুটিতে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রভাবশালী রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহাম চলতি সপ্তাহেই অচলাবস্থার কারণে বন্ধ সরকারি সংস্থা ও বিভাগগুলো সাময়িক সময়ের জন্য খোলার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকে উৎসাহিত করতে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে প্রকাশ। কিন্তু সোমবার ট্রাম্প গ্রাহামের এ অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেন।

হোয়াইট হাউস থেকে লুইজিয়ানার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিন্ডসে এ ধরনের একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন, আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি এর সমাধান দেখতে চাই। আমি একে পিছিয়ে দিতে চাই না।’  মেক্সিকো সীমান্তে একটি নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণের লক্ষ্যে চলতি বছর কংগ্রেসের কাছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সম্মতি ছাড়া কংগ্রেস এ বরাদ্দ অনুমোদন করতে পারবে না। ট্রাম্প বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের বাজেট বিলে স্বাক্ষর করবেন না। ব্যয় নির্বাহের বাজেট অনুমোদিত না হওয়ায় তহবিল ঘাটতিতে ২২ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এক-চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট শাসিত প্রতিনিধি পরিষদ দেয়াল বাদ দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোনসহ নানা ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মোতায়েনে ১৩০ কোটি ডলার দিতে রাজি হলেও তাতে মন গলেনি ট্রাম্পের। ডেমোক্র্যাটরা দেয়াল নির্মাণের অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের সঙ্গে এক বৈঠক থেকেও তিনি ‘ওয়াক আউট’ করেছেন। মার্কিন সরকারের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ এ অচলাবস্থা ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে খ্যাত কৃষকদের ওপরও বড়সড় আঘাত হেনেছে। কৃষিঋণ ও সহায়তার আবেদনে সাড়া মিলছে না, পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি ও শস্য সম্পর্কিত তথ্যের সেবাও।


আপনার মন্তব্য