শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩০

বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজে দারুণ গতি

আগামী বছরই প্রথম সুড়ঙ্গপথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজে দারুণ গতি

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বাংলাদেশের প্রথম টানেল নির্মাণ ঘিরে চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় টিউব বসানোর কাজ চলছে দ্রুততার সঙ্গে। দেশের অন্যতম এ মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৬৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজের গতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যাবে নদীর তলদেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (কর্ণফুলী) টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, বেশ দ্রুততার সঙ্গে চলছে টানেলের সার্বিক কাজ। নদীর নিচে দ্বিতীয় টিউব বসানোর কাজও চলছে দ্রুততার সঙ্গে। জানুয়ারি পর্যন্ত সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৬৩ শতাংশ। জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় টিউব বসানোর জন্য নদীর তলদেশে খনন করা হয়েছে ২০০ মিটার। নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় টিউব বসানোর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। এর আগে খনন শেষ হওয়া প্রথম টিউবের ভিতর দিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করতে তৈরি করা হচ্ছে সড়ক। শুধু টিউব নয় নদীর দুই তীরে চলছে সংযোগ সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ড তৈরির বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। আনোয়ারা প্রান্তে টানেলের মুখ থেকে মূল সড়ক উঠতে তৈরি করা হচ্ছে ৭২৭ মিটারের উড়াল সেতু। এরই মধ্যে পিলার তৈরির কাজ শেষ হয়ে গার্ডার ও স্লাব বসানোর কাজ চলছে। অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলো তৈরির কাজও চলছে দ্রুততার সঙ্গে। রাতদিন পালা করে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী এবং শ্রমিকরা কাজ করছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়- দ্বিতীয় টিউব বসানোর খনন মেশিন পেছন পেছন সেগমেন্ট ঢুকিয়ে সুড়ঙ্গে পাকা দেয়াল দেওয়া হচ্ছে। কংক্রিটের সেগমেন্টগুলো আটটি ভাগে ভাগ হয়ে রিং আকারে একটির সঙ্গে অন্যটি লাগিয়ে দেয়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ৮ সেগমেন্টে দুই মিটারে একটি রিং তৈরি হয়। খনন আর পাকা দেয়াল সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হচ্ছে। প্রসঙ্গত, চীনের সাংহাই নগরীর আদলে চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারাকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’র আদলে কর্ণফুলী নদীতে তৈরি হচ্ছে টানেল। এ টানেলের এক প্রান্তে রয়েছে আনোয়ারার ভারী শিল্প এলাকা। অন্য প্রান্তে চট্টগ্রাম নগরী, বিমান ও সমুদ্রবন্দর। বিভক্ত দুই অংশকে একই সুতোয় যুক্ত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ সরকার ও  চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পের যৌথ অর্থায়ন করছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে এ টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পুরোদমে চালু হলে প্রতি বছর প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাল্টে যাবে চট্টগ্রাম তথা দেশের অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে শিল্পকারখানা ও পর্যটন শিল্পের।


আপনার মন্তব্য