কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছিল মরক্কো। ২০২২ আসরে শেষ চারে ওঠার পথে পর্তুগাল ও স্পেনকে হারিয়েছিল অ্যাটলাস লায়ন্সরা। সেবার যে রূপকথা মরক্কো গড়েছিল, তা যে কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, তার প্রমাণ মিলল চলতি উত্তর আমেরিকা আসরেও। এবারও দারুণ ছন্দে ছুটছে মরক্কো। গ্রুপ পর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রুখে দেওয়ার পর, এবার নকআউটের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আসরের অন্যতম ফেবারিট নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে দিল আশরাফ হাকিমি-ইয়াসিন বোনৌরা। টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর টিকিট কাটল ডার্ক হর্স মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় আফ্রিকার দলটি। প্রথমার্ধে দুই দলই শারীরিক ফুটবল উপহার দিলেও বলের দখল আর আক্রমণ তৈরিতে একচ্ছত্র দাপট দেখায় মরক্কো। অন্যদিকে ডাচ কোচ রোনাল্ড কুমান আক্রমণাত্মক খেলার বুলি আওড়ালেও, মাঠে তার দলকে কেবল রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তোলে মরক্কো। তবে হাকিমিদের চড়া চাপ সামলে উল্টো ম্যাচের ৭২ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে বসেন ডাচ স্ট্রাইকার কোডি গাকপো। সদ্য অনাগত সন্তানকে হারানোর বুকফাটা বেদনা চেপে খেলতে নেমেছিলেন গাকপো। গোল করার পর উল্লাসের বদলে মাঠেই মাথা নুইয়ে কানায় ভেঙে পড়েন তিনি। যখন মনে হচ্ছিল নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি জিতে যাচ্ছে, তখনই দৃশ্যপটে আসেন ইসা দিওপ। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে শেষ মুহূর্তে মায়ের দেশ মরক্কোকে বেচে নেওয়া দিওপ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করলেন ফুটবল মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। ম্যাচের ৯১ মিনিটে তার দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে মরক্কো।
এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে। সেখানে দুই দলের ভুলের মহড়ার মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনৌ। তার বীরত্বে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর। বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। আফ্রিকার দেশটির কোচ মোহামেদ ওয়াহবির মতে, এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বমঞ্চে সবার সম্মান আদায় করে নিয়েছে তার দল। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা, যা মরক্কোর বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। এদিকে একই দিনে বিশ্বফুটবলে ঘটে গেছে আরেক বড় অঘটন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ ১৬-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে।