মৌসুমি ফলে জমে উঠেছে পার্বত্য অঞ্চলের হাটবাজার। আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও কলাসহ বিভিন্ন দেশিবিদেশি ফলে রমরমা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা। প্রতিদিন পাইকারদের হাত ধরে এখানকার ফল ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে।
পাহাড়ের স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে এ বছর ফলের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। শুধু রাঙামাটিতেই এবার মিশ্র ফলের আবাদ হয়েছে ৩২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। প্রায় সব বাজারেই মিলছে আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, লটকন, ড্রাগন, রামবুটান, জাম, জামরুল, গাবসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল। এসব ফল কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। মাছুদ রানা নামে স্থানীয় এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত ফলের চাহিদা ব্যাপক। অনলাইনেও ব্যবসা জমজমাট। ক্রেতাদের আকর্ষণ যেমন বেশি তেমনই লাভও বেশি। উদ্যোক্তা মো. নাছির বলেন, ‘আমরা বাগানিদের কাছ থেকে পাইকারি দামে ফল কিনে অনলাইনে বিক্রি করি।’ রাঙামাটি কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য তিন জেলায় আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচুর প্রচুর ফলন হয়েছে। রাঙামাটি জেলার সদর, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি, রাজস্থলী উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফলের বাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, রাঙামাটিতে ফলের আবাদ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। জেলার প্রায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩৮৩ হেক্টর জমি থেকে লিচুর উৎপাদন হয়েছে ৯ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন কমেছে আনারসের। রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক বছরে রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক।
বিশেষ করে উন্নত চাষাবাদের কারণে পাহাড়ে সব মৌসুমে সব ফল পাওয়া যায় এ অঞ্চলে। কৃষকরা যদি আরও সচেতন হন, তাহলে ফল উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে।