দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ফুঁসে উঠছে দেশের নদনদীর পানি। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দুধকুমার নদের পানি। সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, ধরলা, সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি। এ ছাড়া যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ভুগাই-কংস ও জাদুকাটা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ১২টি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি সমতল স্টেশনে পানির উচ্চতা বেড়েছে এবং কমেছে ৪৪টিতে। উজানে মেঘালয় রাজ্যে ১১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ৮৮ মিলিমিটার ছাড়ালে তাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, বগুড়া, বরগুনা, জামালপুর, সুনামগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় রাজ্যে আগামী চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে দেশের অন্তত ১০টি প্রধান নদনদীর পানি সতর্কসীমায় এবং কোনোটি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বেড়ে ৩-৫ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। প্লাবিত হতে পারে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টা সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। দুধকুমার নদের পানি কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এ নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। রংপুর বিভাগের ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি আজকের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি। আগামীকালের মধ্যে ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় এবং জাদুকাটা নদীর পানি সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে প্লাবিত হতে পারে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, উজানের ঢল কিছুটা কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে।
তবে তিস্তাপারের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি নামতে শুরু করলেও গ্রামীণ সড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমিতে এখনো পানি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আবারও উজানের ঢলে পানি বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
গত দুই দিনের বন্যায় লালমনিরহাটের প্রায় ৮ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।