নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে বালু উত্তোলন বন্ধে লাঠিসোঁটা ও দা-শাবল নিয়ে পদ্মা নদী পাহারা দিচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েক গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল রানীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষকে দিনভর নদীর পারে অবস্থান করতে দেখা যায়। এর আগে পদ্মার বালু উত্তোলন করতে ৪০-৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নদী ও স্থলপথে সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানীনগর এলাকায় আসে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাধা দিলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করতে যায় তারা। খবর পেয়ে গ্রামবাসীও দা-শাবল, লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। ভাঙনের হাত থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষায় জীবন দিয়ে হলেও এখান থেকে আর বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলে জানান গ্রামবাসী। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসি ল্যান্ড ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা বুঝিয়ে ইজারাদারদের বালু উত্তোলন থেকে বিরত করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পালাক্রমে লাঠি হাতে নদীর পারে অবস্থান করছেন গ্রামের মানুষজন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দফা নদীভাঙনের শিকার হয়ে পদ্মা নদীতে বাঁধ থাকা এলাকায় বসতবাড়ি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মাপারের বাসিন্দারা। কিন্তু সেই বাঁধ এলাকায় বালু উত্তোলন শুরু করলে হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়বে। তাই স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার রানীনগর এলাকায় বালু উত্তোলন না করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছে। তারপরও চলতি বছর সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানীনগর বালুমহল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
ইজারাদাররা বারবার কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধের নিচেই বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। এতে বাঁধের পাশাপাশি কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকালের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরামুল হোসাইন বলেন, গতকাল ইজারাদাররা বালু উত্তোলনে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেন। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।