শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ মে, ২০২১ ০১:১০
আপডেট : ৬ মে, ২০২১ ০১:১৩
প্রিন্ট করুন printer

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
Google News

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে পরিবারের আবেদন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এসেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ডাক্তাররা অভিমত দিয়েছেন তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও আমরা ডাক্তারদের কাছ থেকে শুনি নাই। প্রধানমন্ত্রী এসব ব্যাপারে অত্যন্ত উদার। আমরা পজিটিভলি এই ব্যাপার দেখব। কালকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে এটি পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসক কথা বলেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে অনেকগুলো আইনি বিষয় জড়িত। কোর্টের কোনো নির্দেশ লাগবে কি না? সেটাও দেখতে হবে। সেজন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদ পাঠানো হয়েছে। প্রসেস শুরু হয়েছে। তাদের মতামত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অবশ্যই পজিটিভলি দেখছি। পজিটিভলি দেখছি বলেই তার দণ্ড আদেশ স্থগিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় যান তিনি। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ধানমন্ডির বাসায় যান শামীম ইস্কান্দার। তিনি সেখানে ৫-৭ মিনিট ছিলেন। 

শামীম ইস্কান্দার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা মন্ত্রীকে জানান। একইসঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে অনুমতির জন্য লিখিত আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ইস্কান্দার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

করোনা পরবর্তী বেশকিছু জটিলতায় ভুগছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ফুসফুস থেকে তরলজাতীয় পদার্থ (ফ্লুইড) অপসারণ করা হয়েছে। তার ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এর মাত্রা ওঠানামা করছে। এ ছাড়া অক্সিজেনে হিমোগ্লবিনের মাত্রাও কিছুটা কমেছে। 

২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এর আগে ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীরে নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজেটিভ আসে। ‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তবে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র সব স্টাফ ইতোমধ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

এই বিভাগের আরও খবর