Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৯ ২১:৪০

বিশ্বের গণমাধ্যমে সংসদকে মধ্য রাতের পার্লামেন্ট বলা হচ্ছে: বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের গণমাধ্যমে সংসদকে মধ্য রাতের পার্লামেন্ট বলা হচ্ছে: বিএনপি
ফাইল ছবি

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন-উর-রশীদ বলেছেন, এ সংসদে বলা হচ্ছে কৌশলে বিএনপি হেরে গেছে, এটি ঠিক নয়। আগের রাত্রেই ব্যালট ভর্তি। পরের দিন গণণা। নির্বাচনের সময় আমাদের ২২ জন এমপি প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪৮ জন নিজেদের নির্বাচনী এলাকায়ই ঢুকতে পারেনি। হেরাল্ড ট্রিবিউনসহ দেশি বিদেশী পত্রিকার নাম উল্লেখ করে এজন্য বিশ্বের গণমাধ্যমে এ সংসদকে মধ্য রাতের পার্লামেন্ট বলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে আজকের বৈঠকে সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের পর চিফ হুইপ চৌ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী এলাকার গ্রেফতারের তথ্য ভুল। এসব বক্তব্য একপাঞ্চ করার দাবি জানান তিনি। 

স্পিকার ৩৭০ বিধি মোতাবেক অসংসদীয় ভাষা একপাঞ্চ করা হবে বলে সংসদকে জানান। এর আগে চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে নির্বাচিত বিএনপির এই এমপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম উল্লেখ করে আরো বলেন, এই সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা প্রতারিত ও অপমানিত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পুলিশ সুপারদের যে চিঠি দেয়া হয়েছে, তা নজিরবিহীন। সেই চিঠিতে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আন্তজার্তিক মানের হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এসপিদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এই যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা- এটির মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। রাতে সিল থাকাতে নির্বাচন কমিশন বলছে এখন থেকে ব্যালট পেপার পাঠাবো সকাল বেলা। স্বচ্ছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ। 

এসময় সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করে দেওয়া দরকার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি ইসি। তারা ব্যর্থ, অযোগ্য। কোনো সন্দেহ নাই।

বিএনপির এমপি হরুন-উর রশীদ আরো বলেন, বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিএপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মামলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ জননিরাপত্তা এখন কোথায়? এই সরকারের আমলে গত দশ বছরে নিখোঁজ হয়েছে প্রায় ১২’শ মানুষ। গুম ও ক্রশ ফায়ারের শিকার হয়েছে কতজন আমি জানি না। আমি এই সংসদে কথা বলছি, আমি আজকে বাড়ি ফিরে যেতে পারব কিনা, রাস্তা থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে আমার ভাগ্যে ইলিয়াসের ভাগ্য জুটবে কিনা- একথা বলতে পারব না। তারা (সরকারি দল) আমাদের উপহাস করে বলে বিএনপি রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না। বিএনপি কত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে, অপহরণ, ক্রস ফয়ারের শিকার হয়েছে তার তথ্য আমি আপনার কাছে পৌঁছে তুলে দেব।

এসময় স্পিকার বাজেট বিষয়ে আলোচনা করতে বললে বিএনপি এমপি হরুন বলেন, মাননীয় স্পিকার বাজেটের ওপর আলোচনা করব বলেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাই রাজনীতির কথা বলতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতি দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এই বাজেটে নেই । এটি একটি অদ্ভুত সরকার। মহাজোটের ভোট করে শরীকদের বিরোধী দলে বসিয়ে দিলেন। আজ সংসদে তাদের চেহারা মলিন। উনাদের অবস্থা নিয়ে উনারা বিব্রত। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য