Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৩

মশার সংগীত চর্চা

ইকবাল খন্দকার

মশার সংগীত চর্চা
আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

আমার এক বড়ভাই বললেন, বিয়ে করে তো ভালোই বিপদে পড়ে গেলাম। আসলে যে শহরে এত মশা, সে শহরের লোকজনের উচিত না বিয়ে করা। কেউ করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের উচিত বাধা দেওয়া। আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে বড়ভাইয়ের কথার মানে বোঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু বুঝতে না পেরে অনুরোধ করলাম বুঝিয়ে বলার জন্য। বিশেষ করে বিয়ের সঙ্গে মশার কী সম্পর্ক, এ ব্যাপারটা ভালো করে বুঝানোর জন্য আবদার করলাম। বড়ভাই আমার আবদার রাখতে গিয়ে ব্যাখ্যায় চলে গেলেন, বিয়ের সঙ্গে আংটি বদলের একটা বিষয় জড়িত আছে, জানিস তো। অন্য সবার মতো আমিও আংটি বদল করেছি। তার মানে আমার হাতে একটা আংটি এখন পারমানেন্ট হয়ে গেছে। তো এখন গালে মশা বসলে যেই থাপ্পড় দিই, এতই ব্যথা লাগে যে, গালে আংটির ছাপ পড়ে যায়। বিয়েটা না করলে হাতে আংটি থাকত না, নিরাপদে গালে থাপ্পড় মারা যেত। ঠিক কিনা? আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আমার ছেলে আমার ওপর খুবই ক্ষিপ্ত। কারণ তাকে আমি সৃজনশীল কাজে বাধা দিচ্ছি। আমি বললাম, আপনি তো লোক ভালো না। আপনার সন্তান সৃজনশীল কাজ করতে চায় আর আপনি সেটাতে বাধা দেন। এটা তো ঠিক না। প্রতিবেশী বললেন, ঘটনা পুরোপুরি না জেনে মন্তব্য করবেন না। আমার ছেলে কোন সৃজনশীল কাজটা করে জানেন, সে গান গায়। আমি বললাম, ঠিকই তো আছে। গান গাওয়ার চেয়ে বড় সৃজনশীল কাজ আর কী আছে! অথচ আপনি এ কাজে বাধা দেন। এটা একদম অনুচিত।

এবার প্রতিবেশী বললেন, ভাইরে, আপনি তো জানেন না আমার ছেলের গলার স্বর কেমন। একদম চিকন আর মিহি। গানে টান দিলে মনে হয় মশা গুনগুন করছে। তো যার গানকে মশার গান বলে মনে হয়, তার কি গান গাওয়া উচিত? এবার আমার পাশেরজন বলে উঠলেন, উচিত না। আবার উচিতও। এজন্য এখন থেকে যা করবেন তা হলো, আপনার ছেলে তার মশা মার্কা চিকন কণ্ঠে গান শুরু করলেই ঘরে এক বা একাধিক কয়েল জ্বালিয়ে দেবেন। কয়েল কম দামি হলে মশারি টানিয়ে নিতে পারেন। আমার এক দুলাভাই কদিন আগে বললেন, শুনলাম আজকাল নাকি বিমান ছাড়তেও দেরি হয়ে যায় মশার কারণে। তার মানে দেশে বিদেশে সব জায়গায় এখন বেশি মশা। কথা সেটা না। এই যে বিমানেও আজকাল মশা থাকে, এটা দিয়ে কী প্রমাণ হয়? আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম, কী প্রমাণ হয়? দুলাভাই বললেন, প্রমাণ হয় যে, সবাই এখন আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। মশার যদি তার নিজের পাখার ওপর আত্মবিশ্বাস থাকত, তাহলে পাখার ওপর ভর করে মানে উড়ে উড়ে দেশ বিদেশে যেত। যেহেতু আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে মানে নিজের পাখার ওপর বিশ্বাস নেই, তাই বিমানে ওঠার পরিকল্পনা করেছে। আমি বললাম, এ পরিস্থিতিতে মশাদের উচিত ফেসবুকে একটা অ্যাকাউন্ট খোলা। তারপর ফেসবুকে যারা মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস দেয় সেগুলো নিয়মিত পড়া। আশা করা যায় তাতে মশাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।

আমার এক বন্ধু বলল, আমার ধারণা মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সৎ হয়ে গেছে। যদি সৎ না হতো তাহলে দেশে এত বেশি মশা থাকতে পারত না। আমি বললাম, বুঝলাম না বিষয়টা। সৎ, মশা... এসব কী? বন্ধু বলল, না মানে আগে অসৎ প্রেমিকরা মশার রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে বলত এটা তার নিজের রক্ত। তো এখন যদি মানুষ আগের মতো অসৎ থাকত মানে এখনো যদি মশার রক্ত দিয়ে প্রেমপত্র লিখত, তাহলে মশার সংখ্যা একটু হলেও কমতে পারত। দামি কথা বলে ফেললাম।


আপনার মন্তব্য