শিরোনাম
বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা
সাক্ষাৎকার

আমানতকারীদের নিরাপদ রেখেই বিনিয়োগ করি

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, ইসলামী ব্যাংক লিঃ‘

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমানতকারীদের নিরাপদ রেখেই বিনিয়োগ করি

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেছেন, আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে ব্যাংকগুলো। ইসলামী ব্যাংকও আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই বিনিয়োগ করে।  বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ব্যাংকগুলো কভিডের সময় অনেক কিছু মোকাবিলা করেছে। প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ থেকে শুরু করে অনেক কিছু করেছে। সেই ঋণ আবার আদায়ও করেছে। এ সময় ব্যাংক দেখেছে, যারা ব্যবসা ভালো করতে পারে, তারা টিকে আছে। কভিডে কিছু ব্যবসায়ী ঝরে পড়েছেন। যাদের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা আছে, ব্যাংক তাদেরই ঋণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা নিয়ে ব্যাংক ব্যবসা করে। ব্যাংক তো আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবেই বিনিয়োগ করবে। আমরা দেখেছি ব্যাংকের সঙ্গে যাদের দীর্ঘদিনের ট্র্যাক রেকর্ড আছে, তাদের বিনিয়োগ করতে পারলে পর্ষদ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আমরা সারা বছর উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করি। কিন্তু কভিড-পরবর্তী সময়ে একজনকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে ফেল করার সম্ভাবনা আছে। তাই একটু সময় নিচ্ছি, আবার শুরু করব। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা পুরনো কিছু রিটেইলার, ডিস্ট্রিবিউটরকে বেছে নিই। যাদের অভিজ্ঞতা আছে আমরা তাদের বিনিয়োগ করেছি। অতীতের ইতিহাস খুঁজতে গেলে তাদের কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পাবেন না। কিন্তু তাদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা আছে।

ইসলামী ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘গুজবের কারণে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছিল, এটাই স্বাভাবিক। গুজবের কারণে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত  হয়েছিল, এটাই স্বাভাবিক। গুজবের বিষয়টি এখন আর মানুষের মধ্যে নেই। আমাদের একটি শাখা থেকে ৯০ জন আমানতকারীর বিভিন্ন পরিমাণে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল। তারা টাকা তুলে নিয়েছেন। ওই শাখায় ৩০০ জন আমানতকারীর ফিক্সড ডিপোজিট আছে। টাকা তুলে নেওয়া ৯০ জনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। ১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ জন আবার ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন। এটাই কিন্তু সারা দেশের দৃশ্য। আমি খুবই আশাবাদী যে, ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

ইসলামী ব্যাংকের এমডি বলেন, গুজবের কারণে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত  হয়েছিল, এটাই স্বাভাবিক। গুজবের বিষয়টি এখন আর মানুষের মধ্যে নেই। আমাদের একটি শাখা থেকে ৯০ জন আমানতকারীর বিভিন্ন পরিমাণে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল। তারা টাকা তুলে নিয়েছেন। ওই শাখায় ৩০০ জন আমানতকারীর ফিক্সড ডিপোজিট আছে। টাকা তুলে নেওয়া ৯০ জনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। ১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ জন আবার ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন। এটাই কিন্তু সারা দেশের দৃশ্য। আমি খুবই আশাবাদী যে, ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

সংকটের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২২ সালেও সিএসআর ব্যয়ে এক নম্বরে ইসলামী ব্যাংক। গত বছর ২০২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জাতির স্বার্থে এ কাজ আমরা করেছি। ইসলামী ব্যাংক কখনো সুদে আমানত সংগ্রহ করে না। প্রফিট শেয়ারিং করে। আমানতকারীদের সাপোর্টের কারণেই গত ৪০ বছরে ইসলামী ব্যাংক এ পর্যায়ে এসেছে। আমাদের আগে-পরে অনেক ব্যাংক এসেছে। কিন্তু কারও সফলতার গ্রোথ ইসলামী ব্যাংকের মতো নয়। এটি আশা করি অব্যাহত থাকবে। যারা সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হয়েছেন, আশা করছি দ্রুতই তারা বুঝতে পেরেছেন। টাকা জমানোর ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করে ইসলামী ব্যাংক নিরাপদ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ইসলামী ব্যাংক।

শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, গুজবটা এটা দিয়েই শুরু হয়েছে। সেই গুজবটা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সুদহার খুবই নমিনাল। পরিশোধের সময়ও অনেক লম্বা। যে কারণে পরিশোধ করাটা অনেক সহজ। বাংলাদেশের যে রেমিট্যান্স এবং যে রপ্তানি- এসব কিছু মিলে বাংলাদেশ যে শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছে না এটা সবাই বুঝে গেছে।

ব্যাংকিং খাত একটি শীর্ষ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দ্বারা শাসিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রয়েছে। সুতরাং এই স্থিতিশীল অর্থনীতিকে যদি কোনোভাবে আঘাত করতে হয় তাহলে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে সহজ। কারণ ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি হচ্ছে আস্থা। আস্থার জায়গাকে টার্গেট করে হয়তোবা অনেক কিছু করার পরিকল্পনা তাদের ছিল। একটা পর্যায়ে মানুষ বুঝেছে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হচ্ছে। আমরা যাদের ঋণ বিতরণ করি, তাদের সঙ্গে যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তাদের কোনো খেলাপি সংস্কৃতি নেই। সুতরাং যাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো সহজ ব্যাংক তাদের কেন অর্থায়ন করবে না।

সর্বশেষ খবর