বাংলাদেশ প্রতিদিন : সারা দেশে বাংলা কিউআর চালু হচ্ছে। এ উদ্যোগকে আপনার প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কীভাবে দেখছেন?
মো. আরফান আলী : আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) বাংলা কিউআর চালু হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সাফল্য। এখন গ্রাহকের একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়ীরাও একটি কিউআর ও একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেই সব ধরনের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। আমাদের বিশ্বাস বাংলা কিউআর খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
মো. আরফান আলী : বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের জন্য জয়তুন ফিনটেক লিমিটেড বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছে। বর্তমানে আমরা কারিগরি সংযুক্তিকরণের পর্যায়ে আছি। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারব। এ লক্ষ্যে আমরা ব্যবসায়ী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাচাইবাছাই এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
মো. আরফান আলী : নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হলো ব্যাংক। মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোও মূলত ব্যাংক হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই তাদের সেবা পরিচালনা করে এবং গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছে তা পৌঁছে দেয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে যে লেনদেন হবে, তার মূল প্রবাহ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পরিশোধসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে আপনার প্রতিষ্ঠান কী উদ্যোগ নিয়েছে?
মো. আরফান আলী : গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে আমরা গ্রামীণ পর্যায়ে ভিলেজ ডিজিটাল বুথকে সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছি। এসব বুথ গ্রামীণ অর্থনীতি ও আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। আমরা মানুষের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পরিশোধব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
মো. আরফান আলী : অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে ডিজিটাল লেনদেনের ফলে ভবিষ্যতে কর পরিশোধের আওতায় আসতে হতে পারে। এ কারণেও কেউ কেউ বাংলা কিউআর ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে পারেন। তাই ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। ডিজিটাল লেনদেনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। যেমন এটি অধিক নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কার্যকর। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজে ব্যবসায়িক ঋণ পেতে পারবেন এবং তাঁদের একটি গ্রহণযোগ্য আর্থিক পরিচিতি গড়ে উঠবে। এসব সুবিধা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বাংলা কিউআর চালুর ফলে নগদ লেনদেন কতটা কমবে বলে আপনি মনে করেন?
মো. আরফান আলী : আমি মনে করি না যে বাংলা কিউআর চালুর সঙ্গে সঙ্গেই নগদ লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। আমাদের বিশ্বাস আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়বে এবং মানুষ ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে নগদবিহীন লেনদেনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে আর্থিক স্বচ্ছতা, সুশাসন ও করব্যবস্থায় কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে?
মো. আরফান আলী : ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে আর্থিক স্বচ্ছতা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। কারণ প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত হবে এবং ব্যাংক হিসাবেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে। এর ফলে সরকারের কর আদায়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা মনে করি। কারণ প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কর (ট্যাক্স)-উভয়ই সম্পৃক্ত। এতে ধীরে ধীরে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।