শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:০১

ফুটওভার ব্রিজে অযত্নে চলন্ত সিঁড়ি

জয়শ্রী ভাদুড়ী

ফুটওভার ব্রিজে অযত্নে চলন্ত সিঁড়ি
কোটি টাকা খরচ করে ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপিত হলেও প্রায়ই বিকল হয়ে থাকে এগুলো। বিড়ম্বনায় পড়েন ব্যবহারকারীরা ছবি : জয়ীতা রায়

রাজধানীর বনানী ও এয়ারপোর্টের সামনের ফুটওভার ব্রিজে দুটি করে চারটি চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিছু দিন না যেতেই সিঁড়িগুলো বিকল হয়ে পড়ে। অচলাবস্থায় পড়ে থাকা সিঁড়িগুলোর প্রধান ফটক থাকে তালাবদ্ধ। এগুলো কখনো সচল, কখনো অচল থাকে। এ অবস্থায় নতুন করে ৮টি পদচারী সেতুতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করতে যাচ্ছে ডিএনসিসি।

তিন বছর আগে বনানী ও বিমানবন্দর সড়কে দুটি পদচারী সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। সেই সিঁড়িগুলো এখন বিকল। গতকাল বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ হয়ে রয়েছে চলন্ত সিঁড়িগুলো। সিঁড়ির সামনের লোহার গেটে তালা। দুই পাশের সাধারণ সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করছে মানুষ। পাশের ফুটপাথের দোকানদার সিরাজ মিয়া বলেন, চলন্ত সিঁড়ি মাঝেমধ্যে চালু করে। কিন্তু কয়েক দিন না যেতেই নষ্ট হয়ে যায়।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারে ৪৪টি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ‘ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে মোট নতুন ৩৬টি ফুটওভার ব্রিজ ও নতুন ৮টি ব্রিজে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি (এসকেলেটর) যুক্ত করা হবে।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘আগে দেখতে হবে চাহিদা আছে কি না। সেখানে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উপযোগী হবে কি-না, জনবল আছে কি-না তাও দেখতে হবে। যে দুটি ফুটওভার ব্রিজ আগে স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর ফলাফল কী তাও দেখতে হবে। প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে সেটা নির্ধারণ করে উন্নয়ন করতে হবে। ফুটওভার ব্রিজ নয়, বরং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে প্রচার বাড়াতে হবে।’

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যে সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো বাইরের জন্য উপযোগী ছিল না। ফলে ধুলা ও বৃষ্টির পানিতে কিছু দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। এখন যেগুলো লাগাচ্ছি, ধুলা ও বৃষ্টিতে সেগুলোর সমস্যা হবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমেই এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।’

জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের’ প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৩১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

যে ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপন করা হবে সেগুলো হচ্ছে- কাকলী পদচারী সেতু, শাহীন কলেজ পদচারী সেতু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, সিএমএইচ হাসপাতাল, শ্যামলী ইন্টারসেকশন, মহাখালী (ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ এর সামনে) ও প্রগতি সরণি ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পদচারী সেতু। প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা, ১৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার পার্শ্ব নর্দমা নির্মাণে ৯ কোটি ১৩ লাখ, ৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার পাইপ নর্দমা নির্মাণে ২১ কোটি ৮৭ লাখ, ২৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার ফুটপাথ উন্নয়নে ২২ কোটি ৪ লাখ, ৭ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়ক বিভাজন উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ, ২২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার এমএস গ্রিল ফেন্সিং স্থাপনে ২১ কোটি ৮৫ লাখ, ১ হাজার ৭১০টি ট্রাফিক সাইন স্থাপনে ১ কোটি ৭ লাখ, ৫০টি যাত্রী ছাউনি স্থাপনে ৪ কোটি ৯৩ লাখ, ৩৬টি নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ৯৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৭টি বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজ উন্নয়নে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপনে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি ওই প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেয়নি সংস্থাটি। ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০টি নতুন যাত্রী ছাউনি, বিদ্যমান ৪৭টি পদচারী সেতু সংস্কার, ট্রাফিক সাইন স্থাপন, সড়ক, সড়ক বিভাজন ও ফুটপাথ উন্নয়নের কথাও রয়েছে।


আপনার মন্তব্য