শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:৩১

আধুনিকায়ন হচ্ছে ঢাকার মাঠ-পার্ক

উত্তর সিটিতে মাঠ ছয়টি এবং পার্ক ২১টি, শিশুপার্ক চারটি। এ ছাড়া ঈদগাহ মাঠ রয়েছে তিনটি। বেশ কয়েকটি মাঠ ও পার্কে চলছে উন্নয়ন কাজ। এর মধ্যে আধুনিকায়ন শেষে খুলে দেওয়া হয়েছে চারটি পার্ক ও একটি খেলার মাঠ। ফেব্রুয়ারিতেই কয়েকটি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন শেষে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে

জয়শ্রী ভাদুড়ী

আধুনিকায়ন হচ্ছে ঢাকার মাঠ-পার্ক
রাজধানীর দুই সিটির প্রায় ৪০টি মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বনানী ১ নম্বর রোডের শহীদ যায়ান পার্ক আধুনিকায়ন শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছবি : জয়ীতা রায়

মাঠে ঘাসের সবুজ গালিচা, মাঝখানে ক্রিকেট পিচ। চারপাশে ওয়াকওয়ে, গাছের ছায়ায় নির্মল পরিবেশ। রয়েছে বিশ্রামের জায়গা। শিশু, বড়, সব বয়সী মানুষের অবসর বিনোদন, খেলাধুলার জন্য নতুনভাবে সেজেছে বনানীর শহীদ যায়ান পার্ক। আধুনিকায়ন শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজধানীর বনানী এলাকার ১ নম্বর রোডের এই পার্কটি।

যায়ান পার্কের মতোই রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একযোগে শুরু হয়েছে খেলার মাঠ, পার্ক আধুনিকায়নের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত দখল হয়ে যাওয়া মাঠ, পার্ক অবমুক্ত করে আধুনিকায়ন করছে সিটি করপোরেশন। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় নিহত শিশু যায়ান চৌধুরীর নামে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠটির আধুনিকায়ন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে। যায়ান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, উত্তর সিটিতে মাঠ ছয়টি এবং পার্ক ২১টি, শিশু পার্ক চারটি। এছাড়া ঈদগাহ মাঠ রয়েছে তিনটি। বেশ কয়েকটি মাঠ ও পার্কে চলছে উন্নয়ন কাজ। এর মধ্যে আধুনিকায়ন শেষে খুলে দেওয়া হয়েছে চারটি পার্ক ও একটি খেলার মাঠ। ফেব্রুয়ারিতেই কয়েকটি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন শেষে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্য তিনটি মাঠ মগবাজারের মধুবাগ, রায়েরবাজার ও সলিমুল্লাহ রোডে অবস্থিত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পার্কে গিয়ে দেখা যায়, ১৭০০ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, হাঁটার পথ, সাইকেল লেন, তিনটি পুকুরঘাটে ছিমছাম সাজানো জায়গা। পার্ক ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে টয়লেট, গোসলখানা, জিমনেসিয়াম, অজুখানাসহ নামাজের স্থান, ক্যান্টিন ও ছয়টি বসার জায়গা। অবসরে কেউ বই পড়তে চাইলে পার্কে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ একটি লাইব্রেরি। জলাধারের উত্তর-পশ্চিমের ঢালে রয়েছে ঘাসে ঢাকা সবুজ মুক্তমঞ্চ। এখানে ৪০০ মানুষ একসঙ্গে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। কৃত্রিম পানির ফোয়ারা সৌন্দর্যে যোগ করেছে অন্যমাত্রা। এছাড়া তরুণদের জন্য একটি আউটডোর বাস্কেটবল গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হয়েছে, রয়েছে একটি ব্যাডমিন্টন কোর্টও। পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। গতকাল বিকালে পার্কে হাঁটতে এসেছিলেন মাহমুদুল চৌধুরী (৬৫)। চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে শরীরচর্চায় জোর দিয়েছেন তিনি। মাহমুদুল চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরে সবুজের মধ্যে সময় কাটাতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। এই পার্কে হাঁটতে এলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। শিশু, তরুণ থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে আসে। হাঁটতে গিয়ে তৃষ্ণা লাগলে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। মাহমুদুল চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই গাছের পাশ থেকে সায় দিয়ে ডেকে ওঠে কোকিল।

ঢাকা দক্ষিণের কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মাঠেই উন্নয়ন কাজ চলছে। ডিএসসিসি থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ১০টি মাঠের মধ্যে সাতটিতেই উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে সামসাবাদ খেলার মাঠের ২০ শতাংশ, বালুরঘাট মাঠের ৬০ শতাংশ, সাদেক হোসেন মাঠের ৬৫ শতাংশ, দেলোয়ার হোসেন মাঠের ৭৫ শতাংশ, গোলাপবাগ মাঠের ৭৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ মাঠের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণের তিনটি মাঠ খেলার জন্য উন্মুক্ত আছে। এগুলো হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলাউদ্দিন পার্ক (বাসাবো মাঠ), জোড়পুকুর মাঠ ও শহীদ আবদুল আলীম মাঠ। খুব দ্রুতই মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়ন করে খুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সিটি করপোরেশনের মাঠ বা পার্কে যেন কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি না হয় সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ তৈরির জন্য বিভিন্ন সংস্থার যেসব জমি আছে, সেগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকা শহরে এখন যত লোক বাস করে, তাদের জন্য যত সংখ্যক খেলার মাঠ বা পার্ক দরকার, এখন তা ৯০ ভাগের ১ ভাগ রয়েছে। শুধু শিশুদের জন্য নয়, সব বয়সী মানুষের জন্য পার্ক, মাঠ, উন্মুক্ত স্থান দরকার। খাসজমি চিহ্নিত করে এবং খাল ও নদীর পাড়ের জায়গাগুলো পাবলিক স্পেস বা গণপরিসর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখানে খেলার মাঠও বানানো যায়। ভালো শহর বানাতে হলে অবশ্যই গণপরিসরের দরকার আছে।


আপনার মন্তব্য