শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ আগস্ট, ২০২১ ২৩:০৩

তরলবর্জ্যে বিষাক্ত পরিবেশ

আফজাল, টঙ্গী

তরলবর্জ্যে বিষাক্ত পরিবেশ
Google News

গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ওয়াশিং, ডাইং, ওষুধ ও কেমিক্যাল কারখানার বিষাক্ত তরলবর্জ্য ও বিভিন্ন কারখানার আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কারখানার বিষাক্ত তরলবর্জ্য কৃষি জমি, খাল ও নদে গিয়ে পড়ছে। জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবহার উপযোগিতা হারাচ্ছে পানি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। অথচ শত শত শিল্প-কারখানা পরিবেশের নিয়মনীতি না মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিন জানা যায়, গাজীপুরে কারখানার বিষাক্ত তরলবর্জ্য ও কারখানার আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। টঙ্গী বিসিক, আরিচপুর মিরেশপাড়া, পাগাড়, গোপালপুর, সিলমুন, মরকৃন, দেওড়া, মুদাফা, গাজীপুরা, সাতাইশ, পূবাইল, কালিগঞ্জ, বড়বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুর, জয়দেপুর, কোনাবাড়ি বিসিক, কাশিমপুর, সালনা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত কারখানায় নেই আবর্জনা শোধনের ইটিপি। অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নেই পরিবেশ ছাড়পত্র। অনেক কারখানায় ইটিপি থাকলেও  ব্যবহার হচ্ছে না। অবৈধ বাইপাস লাইনের মাধ্যমে তরলবর্জ্য নদে নির্গত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইটিপি স্থাপনের নামে বছরের পর বছর ধরে কালক্ষেপণ করছেন। এ ছাড়া ইটিপির স্লাজ ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্টার প্রেসের মাধ্যমে স্লাজ হতে পানি অপসারণ করে ছয় মাস শুকিয়ে পরিবেশ সম্মত উপায়ে পুড়িয়ে অথবা নির্দিষ্টস্থানে ফেলতে হয়। অথচ কারখানা কর্তৃপক্ষের বিষাক্ত স্লাজ ব্যবস্থাপনায় নেই কার্যকর ভূমিকা। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের বিষাক্ত স্লাজ ব্যবস্থাপনায় নেই কার্যকর ভূমিকা। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে
টঙ্গী বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন শেখ বলেন, পরিবেশ দূষণরোধে সেন্ট্রাল ইটিপি নির্মাণ করতে হবে। সরকার টঙ্গী বিসিক থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। আমরা মালিকরা বিসিককে ভূমি উন্নয়ন কর, সার্ভিস চার্জ দেই এবং সিটি করপোরেশনকে লাখ লাখ ট্যাক্স দেই। অথচ বিসিকে কারখানার ময়লা-আবর্জনা নিজেদের টাকায় ফেলতে হয়।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আ. সালাম সরকার বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু ওয়াশিং ও ডায়িং কারখানাকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে।