শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ এপ্রিল, ২০২১ ২২:০৩

অন্যরকম বৈশাখ...

অন্যরকম বৈশাখ...
মডেল : সানজিদা আমিন, ছবি : নেওয়াজ রাহুল
Google News

পয়লা বৈশাখ, বাঙালির উৎসবের দিন। গত বছরের সমস্যা আর যন্ত্রণা ভুলে নতুন বর্ষবরণ করবে বাঙালি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত হবে প্রাণের উৎসবে। তবে করোনা মহামারী ম্লান করে দিয়েছে বাঙালির এই আনন্দ-উৎসবটি। তাই তো এবারের বৈশাখী আয়োজনও অন্যরকম...

 

বছর ঘুরে আবার এলো বাংলা নববর্ষ। তবে নেই চারুকলার উন্মাদনা, নেই রমনা বটমূলে ছায়ানটের গান, নেই মঙ্গলশোভাযাত্রা। তবু বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভুলে নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার মঙ্গল কামনায় বৈশাখের প্রথম প্রহরে বরণ করে নেবে বছরের প্রথম দিনটিকে। পুরনোকে বিদায় জানাবে নতুনের আবাহনে।

করোনা মহামারীর কারণে সরকারিভাবে পয়লা বৈশাখের নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়া পরিসরে পালন করতে পারবেন বৈশাখী উৎসব। আর ভার্চুয়াল মাধ্যমে উৎসবে অংশগ্রহণ, প্রিয়জনের সঙ্গে ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ষবরণে মেতে উঠবে বাঙালি। আর এই আয়োজনে নতুন পোশাক ছাড়া একেবারেই অসম্ভব।

 

বৈশাখের ঝড়ো আর উত্তপ্ত আবহাওয়ায় সুতি পোশাক সবচেয়ে ভালো পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদা ঐতিহ্য। তবে অন্য রং হলেও মন্দ হবে না। সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখে। এছাড়া হালকা রঙের সুতি পোশাক রোদ ও তাপ থেকে বাঁচিয়ে শরীরে স্বস্তি দেয়। ইদানীং তাঁতের কাপড়ও বৈশাখী ফ্যাশনে প্রাধান্য পাচ্ছে। নকশায় উঠে আসে বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতি।

 

বৈশাখের পোশাকে প্রধান অংশ জুড়ে আছে বাঙালি নারীর শাড়ি। কেননা, শাড়িতেই লুকিয়ে থাকে ষোলোআনা বাঙালিয়ানা। বৈশাখী সাজে সুতি শাড়ি ছাড়াও সিল্ক, মসলিন, জামদানি পরতে পারেন। মূলত সাদা ও লালের জমিনে শাড়ির পাড় ও আঁচল সাজানো হয়েছে বিভিন্ন রং, ঐতিহ্যবাহী নকশা ও দেশীয় মোটিভে। ঘিয়া জমিনে মণিপুরী নকশার চিকন লাল পাড়ের শাড়িও রয়েছে পছন্দের তালিকায়। শাড়ির নকশায় পটচিত্র, টেরাকোটা, মুখোশ, জমিদার বাড়ি, ঢোল, তবলা, কলকাসহ বিভিন্ন বাঙালিয়ানা ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হ্যান্ডপেইন্ট, হাতের কাজ, ব্লক, স্ক্রিন পেইন্টের মাধ্যমে। এখন নকশা করা ব্লাউজ বেশ চলছে। পয়লা বৈশাখে এবার ব্লক, বাটিক, শিবুরি ও টাইডাই, গামছা চেক ব্লাউজ খুব চলবে। চলবে বড় ফুলেল প্রিন্টের ব্লাউজও। এক রঙের বা প্লেইন পাড়ের শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের ব্লাউজ দারুণ ফুটবে।

 

এর পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা, টপ, শার্ট, ফতুয়া, তাগা কিংবা টিউনিকের সঙ্গে জিন্স, পালাজ্জো, পাটিয়ালি কিংবা স্টাইলিশ যে কোনো প্যান্ট তো আছেই! কাটিংয়ে বৈচিত্র্য, রঙের ভিন্নতা আর ডিজাইনে নতুনত্ব; তিনের সমন্বয়ে তৈরি এবারের বৈশাখের পোশাক। পোশাকে সাদা, লাল, ধূসর, কমলা, ফিরোজা, মেজেন্টা, স্টোনকালার, নীলের নানা শেড, পার্পল, ক্রিমসন রেড, অফ হোয়াইট, ক্রিমসহ নানা রঙের ছোঁয়া। পোশাকের ডিজাইনে হাতের কাজ, অ্যাম্ব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, কারচুপি এবং টাইডাইয়ের মাধ্যমে অলংকরণ করা হয়েছে। শখের হাঁড়ি, হাতপাখা, আলপনাসহ হরেক রকম লোকজ নকশায় বর্ণিল এবার বৈশাখের পোশাকগুলো। ফিউশন কিংবা দেশীয় পোশাকের প্যাটার্নে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বৈশাখী মোটিভ এবং ফেব্রিকই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পোশাকে।

 

রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস জানান, করোনাকালের সমস্যা ও বেদনা সত্ত্বেও বাঙালি বরণ করে নেবে বছরের প্রথম দিনটিকে। এবারের বৈশাখী পোশাকের মোটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে শতরঞ্জি, উজবেক সুজানি, মধুবনি ও মানডালা। রঙের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে লাল, সাদা, নীল, মেজেন্টা, পেস্ট, কমলা, টিয়া, ক্রিম ও ফিরোজা। ফেব্রিক হিসেবে থাকছে তাঁত, সুতি, হাফ সিল্ক ও মসলিন। ভেল্যু অ্যাডে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, অ্যাম্ব্রয়ডারি, প্যাঁচওয়ার্ক, হাতের কাজ ও কারচুপির ওপর এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

মার্চ মাসের শুরু থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় লকডাউনে দেশ। তাই বৈশাখের পোশাক সংগ্রহের একমাত্র মাধ্যম অনলাইন শপ। করোনাকালে ফ্যাশন হাউসগুলো গ্রাহকদের অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে পোশাক সরবরাহ করছে। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে কিংবা জনসমাগম ঘটিয়ে বর্ষবরণ পালন করা না গেলেও সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরোয়া পরিসরে পয়লা বৈশাখ পালন করা যাবে। পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মীরা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে উদযাপন করবে বাংলা নববর্ষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়া পরিসরে  পরিবারের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করুন। 

 

নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে। যারা বেঁচে আছি, তারা সুস্থ পৃথিবীতে আরেকটি নববর্ষের আনন্দযজ্ঞে শামিল হওয়ার দূরপ্রসারী স্বপ্ন রাখি।

লেখা : ফেরদৌস আরা