Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২১
আগস্টে আরও হামলার আশঙ্কা
মন্ত্রিসভার বৈঠক
সবাইকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ
তথ্যমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
নিজামুল হক বিপুল

আগস্টে দেশে আবারও জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর ও আদালতে এ হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলা চালানোর জন্য নানাভাবে তত্পর রয়েছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা। এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর রায় এক মাস পিছিয়ে যাওয়ায় মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে নিজের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তোপের মুখে পড়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মন্ত্রিসভা বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো এজেন্ডা না থাকার কারণে গতকাল বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় জঙ্গি ইস্যুসহ আরও বেশ কিছু বিষয় স্থান পায়। বৈঠক সূত্র জানায়, গতকালের  বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনা শুরু হয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য নিয়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আলোচনাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে দেননি। একজন সিনিয়র মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আগস্ট মাসে দেশে আরও হামলা হতে পারে। তার কাছে তথ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেন, আগস্টে মন্ত্রিসভার সদস্য ও আদালতসহ আরও অনেক স্থানে হামলা হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলা চালানোর জন্য সুইসাইড স্কোয়াডসহ নারী সদস্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা আরও ঘটনা ঘটাতে পারে। এর আগে গত ১১ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার এক দিন পর আসেম সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গোলিয়া যাওয়ার আগেও প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও একই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় রিভিউয়ের শুনানি এক মাস পিছিয়ে দেওয়ায় মন্ত্রিসভার অনেক সিনিয়র সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যত দ্রুত সম্ভব এই মানবতাবিরোধী অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার অনুরোধ জানান তারা। এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকে একজন সিনিয়র মন্ত্রী গুলশান ও বারিধারা থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ উচ্ছেদের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুলশানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরানো হবে না। তবে এ নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

তোপের মুখে তথ্যমন্ত্রী : মন্ত্রিসভার একজন সিনিয়র সদস্য জানান, বৈঠকের শেষে তথ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের লোগোযুক্ত একটি সাদা খাম পৌঁছে দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার সব সদস্যের সামনে। যাতে তথ্যমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। গত রবিবার তথ্যমন্ত্রী রাজধানীতে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে চুরির জন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের দায়ী করেন। যদিও পরবর্তীতে ওই দিন মন্ত্রী তার এই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠান। গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে তথ্যমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পত্রটি হাতে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। জানতে চাইলে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আমি বলেছি এটা হতে পারে না। আপনি একজন কেবিনেট সদস্য হয়ে সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। চুন্নু বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি ২০০৯ সাল থেকে এমপি। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে টিআর ও কাবিখার এক ছটাক গম আত্মসাতের অভিযোগ আনতে ও প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করব। এ সময় তিনি তথ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, উনি বলুক উনি কত খাইছেন। ঢালাওভাবে সবাইকে চোর বানানো উচিত নয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কথার সূত্র ধরে একাধিক সিনিয়র মন্ত্রীও এ বিষয়ে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী অনেকটাই নিশ্চুপ ছিলেন। তবে তিনি একাধিকবার বলার চেষ্টা করেছিলেন এই বলে যে, তিনি এসব বক্তব্য দিতে চাননি। তিনি বিএনপি সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে কিছু কথা বের হয়ে গেছে। সিনিয়র একজন মন্ত্রী জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শান্ত করে তথ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, হাতের তীর এবং মুখের কথা ছেড়ে দিলে সেটা আর ফেরত নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাদের সরকারের যে এত এত অর্জন সেগুলো নিয়ে কোনো কথা বলেন না। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আমলের যেসব দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। এদিকে গতকালের বৈঠকে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন ২০১৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow