বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। তাই কোন ধরণের আনুষ্ঠানিকতা নেই। তারপরও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকা কামারজানিতে স্থাপিত বসুন্ধরা শুভ সংঘ স্কুলের শিশুদের মধ্যে ছিল স্বত:স্ফুর্ত উচ্ছাস।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় স্কুল ভবন চত্বরে নতুন বই দেওয়ার ঘোষণা আগেভাগে জানানো হলেও শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা অপেক্ষা করছিলেন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে।
নতুন বই নেয়ার আগে সংগঠক, শিক্ষক ও ছোট্ট শিশুরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনা করে নিরবতা পালন এবং দোয়া করে। তারপর শুরু হয় বই বিতরণ।
ওই স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫৫ জন। শুভ সংঘের জেলা কমিটির বন্ধুরা এবং স্কুলের শিক্ষকরা তাদের হাতে বই তুলে দেন। বই পাওয়ার পর শিশুদের হাসি আর আনন্দ ছিল দেখার মত।
প্রাক-প্রাথমিকের মো. রাসেল জানালো, ‘এখনও পড়া শিখি নাই। খালি বইয়ের পাতা উল্টেয়া ছবি দেখি। আপারা কচে, কয়েক মাসের মধ্যে তামানে শিখি দেবে’।
দ্বিতীয় শ্রেণির সুমনা আকতার নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে বলল, ‘সারা বছর এই দিনটার অপেক্ষায় থাকি। নতুন বই হাতে নিয়ে মন ভালো হয়ে গেলো’।
অভিভাবক আসফি বেগম বললেন, এই স্কুলটির কারণে এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বসুন্ধরা গ্রæপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা নিশ্চয় এই স্কুলটিকে আরও বড় করবেন।
শুভ সংঘের আহছানিয়া তাসনিম সিগ্ধা ও আহছান আজিম প্রধান নাইম জানালো, চার বছর আগে এই এলাকায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বই দিতে এসে ভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের এই উচ্ছাস আমাদের মধ্যেও ভালোলাগা তৈরি করে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হান্নান বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। তাই এবার বই বিতরণে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তিনি বলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২২১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ১টি পরীক্ষন বিদ্যাালয় ও ৫৩টি কেজি স্কুলে ৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি বই বিতরণ করা হয়েছে।
শুভসংঘ স্কুলে বই বিতরণের সময় স্কুলের শিক্ষক নীলা আকতার ও শারমিন বেগম উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক