টানা এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষজন। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় জীবিকার সংকটে পড়েছেন জেলে ও দিনমজুররা। অল্প পানিতে মাছ না থাকায় অনেকেই মাছ ধরতে পারছেন না।
এমনই একজন জেলে হলেন জমিল উদ্দিন। মাছ বিক্রি করে কোনোমতে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলেও শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য হয়নি তার। শীতের কাপড়ের অভাবে রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়—নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জমিল উদ্দিনের মতো অসহায় ও শীতার্ত মানুষের খোঁজে রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল বিতরণ করেছে রাজিবপুর সরকারি কলেজ বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসিক মাহমুদ, রাজিবপুর সরকারি কলেজ বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সহসভাপতি সাইদুর ও সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদসহ কলেজ শুভসংঘের সদস্য রাকিবুজ্জামান, মামুন, রিফাত আহমেদ, রিফাত মিয়া, অনিক, সোহেল, মোখলেস প্রমুখ।
শুভসংঘের সদস্যরা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লেও এখনও অনেক দরিদ্র মানুষ সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তার আওতায় আসেননি। তাই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
কম্বল পেয়ে জমিল উদ্দিন বলেন, শীত খুব কষ্ট। কেউ আমারে কম্বল দেয় নাই। তোমরা দিলা, এখন শীত লাগবে না। আল্লাহ তোমাদের ভালো করুক।
৪ জানুয়ারি রাতের আঁধারে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েও শুভসংঘের বন্ধুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত ৩০টি পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
এই মানবিক উদ্যোগের জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। রাজিবপুর সরকারি কলেজ বসুন্ধরা শুভসংঘ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শীতকালজুড়ে তাদের সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল