নতুন শিক্ষাবর্ষের বই পেয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার ডেবরপাড়া-বুধিরামপুর গ্রামে অবস্থিত বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি নাটোরের লালপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরের বই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষকে।
নতুন বই হাতে পেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঝলক। স্কুল প্রাঙ্গণজুড়ে বইয়ের ঘ্রাণ আর শিশুদের হাসিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন বই পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।
বই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা, স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় অতিথিরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় আনার লক্ষ্যে এই ধরনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নতুন বই পাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্রামের তিন কিলোমিটার এর মধ্যে কোন বিদ্যালয় নাই বিধায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করব।’
অভিভাবক রাশেদুল বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় এখানে আমাদের সন্তানরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষকমন্ডলীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের সহযোগিতায় এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা সময়মতো নতুন বই পাচ্ছে, যা তাদের নিয়মিত পড়াশোনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নতুন বছরের বই বিতরণ উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং তারা নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে।
স্থানীয় অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এমন মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া