ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কয়েক দিন ধরে জয়পুরহাটে তীব্র শীত বিরাজ করছে। এই শীতে বসুন্ধরা শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার কাছ থেকে কম্বল পেয়ে ভীষণ খুশি এতিম ও অসহায় শিশু দুখু মিয়া। মা-বাবাহীন মানবেতর জীবনযাপন করা এই শিশুটি জানায়, তীব্র শীতে মাঝে মাঝে খড় জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে শীত নিবারণের চেষ্টা করে দিন কাটছিল। রাতে হিমেল বাতাসে ঘুম হতো না। কম্বল পাওয়ায় এখন থেকে সে রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারবে।
এতিম শিশু রায়হান জানায়, তারা মানুষের সহযোগিতায় বেঁচে আছে। তাদের মতো এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগে তারা খুবই আনন্দিত।
এতিমখানার লিল্লাহ কাশিয়ার আপন সরদার বলেন, আলহেরা নূরানী হাফেজিয়া এতিমখানার শিশুরা শীতে খুব কষ্টে ছিল। কম্বল পেয়ে তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও আশানুরূপ সাড়া পাইনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
জয়পুরহাট শহরের সবুজনগর এলাকার আলহেরা নূরানী হাফেজিয়া এতিমখানার শিশুদের মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বসুন্ধরা শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে ৫০ জন এতিম ও দুস্থ শিশুর হাতে হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
কম্বল বিতরণকালে শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ-এর জেলা প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী বলেন, শীতের কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় আমরা এতিম শিশুদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি।
শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি ছহরাফ ইসলাম ইমন বলেন, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শুভসংঘের লক্ষ্য। এতিম শিশুদের জন্য এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, মানবকল্যাণের ব্রত নিয়ে আমরা শুভসংঘের মাধ্যমে কাজ করছি। কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখের হাসি আমাদের কাজের প্রেরণা।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা খ. ম. আব্দুর রহমান রনি, উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি শামিম কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ইসলাম, কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজল হোসেন, সদস্য ফয়সাল হোসেন, এতিমখানার মুহতামিম মো. নুর আলম, মুহতামিম মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল