নতুন বছরের ভাবনা, আত্মঅনুসন্ধান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে শব্দে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ভিন্নধর্মী রচনা প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার শিরোনাম ছিল “নতুন বছর, নতুন অঙ্গীকার”।
আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের লেখায় নতুন বছরের স্বপ্ন, আত্মসমালোচনা, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের বহুমাত্রিক দিক ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স শাখার সভাপতি মুসলেমিনা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তানিয়া তানজি, রাজমিন সুলতানা, কাজী সানজিদা ইসলাম, সোনিয়া, সীমা রানী সাহা, তাহরীমা তামরিণ, জাকিয়া সুলতানা, রুকাইয়া জামিন নাজাত, জেবা, নুসাঈবা সিদ্দিক অবনী, জান্নাত আরা লিকু, অনামিকা রানী পাল, লিখা, শাহানাজ, সালমা, তাসনিম, ফাহমিদা আজ্যুম, আফরিন নাহার নিঝু, বিপাশা আক্তার বিথী, শৌস্য সোমানী, রিয়া, নাবিলা ও আফিয়া সারা খান।
সভাপতির বক্তব্যে মুসলেমিনা সুলতানা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনায় মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করতে এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখালেখির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা গভীরভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়।’
সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য মল্লিক বলেন,‘শিক্ষার্থীদের লেখার মধ্য দিয়ে নতুন বছরের অঙ্গীকারগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মননচর্চা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।’
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এই আয়োজন তাদের নিজস্ব ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এক প্রতিযোগী বলেন,নতুন বছর মানে শুধু ক্যালেন্ডার বদল নয়, নিজের ভেতরের পরিবর্তনের অঙ্গীকার এই ভাবনাটাই লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
অন্য একজন বলেন, এই প্রতিযোগিতা আমাদের নিজেকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
বিচারকদের রায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন শিল্পকলা ও সৃজনশীল শিক্ষা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আনাবিয়া আফরিন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা আঞ্জুম। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী সানজিদা ইসলাম। চতুর্থ স্থান অর্জন করেন শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার এবং পঞ্চম স্থান অর্জন করেন শিল্পকলা ও সৃজনশীল শিক্ষা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সীমা রানী সাহা।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল ও মননশীল লেখার প্রশংসা করেন বিচারকরা। আয়োজকদের মতে, নতুন বছরের শুরুতে এমন সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, আত্মসমালোচনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক