গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই প্রচণ্ড শীতে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখা। সংগঠনটির উদ্যোগে এতিম ও দুস্থ শিশুদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাট শহরের সবুজনগর এলাকায় অবস্থিত আলহেরা নূরানী হাফেজিয়া এতিমখানার ৫০ জন এতিম ও দুস্থ শিশুর হাতে হাতে কম্বল তুলে দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
কম্বল পেয়ে ভীষণ খুশি এতিম শিশু দুখু মিয়া। সে জানায়, কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না থাকায় প্রচণ্ড শীতে হাত-পা কুঁকড়ে যাচ্ছিল। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যেত না। কম্বল পাওয়ায় এখন থেকে রাতে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবে সে।
এতিম শিশু রায়হান বলে, ‘আমরা অসহায়। মানুষের সহযোগিতাতেই আমাদের বেঁচে থাকা। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের জন্য যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে আমরা খুব খুশি।’
এতিমখানার লিল্লাহ কাশিয়ার আপন সরদার বলেন,“আমাদের এতিমখানার শিশুরা শীতে খুব কষ্টে ছিল। অনেক জায়গায় সহযোগিতার আবেদন করেও সাড়া পাইনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহায়তায় শিশুদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। আমরা আয়োজকদের জন্য দোয়া করি।”
কম্বল বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী বলেন,“শীতের কষ্ট লাঘবে সমাজের ভালো মানুষের সহযোগিতায় আমরা ৫০ জন এতিম ও দুস্থ শিশুর হাতে কম্বল তুলে দিতে পেরেছি। এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারসহ শুভসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য দোয়া কামনা করছি।”
জেলা শাখার সভাপতি ছহরাফ ইসলাম ইমন বলেন,“অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের লক্ষ্য। এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। সমাজের বিত্তবানদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন,‘মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই শুভসংঘের দায়িত্ব নিয়েছি। কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখের হাসি আমাদের কাজের প্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জয়পুরহাট জেলা শাখার উপদেষ্টা খ.ম আব্দুর রহমান রনি, উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি শামিম কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ইসলাম, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম,ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজল হোসেন, সদস্য ফয়সাল হোসেন, এতিমখানার মুহাতামিম মো: নুর আলম, মুহাতামিম মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক