তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার কার্যকর কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে রংপুর জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রস্তাবিত কমিটির আয়োজনে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সভায় নতুন কমিটি গঠন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর কলেজ রোডে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক লায়ন মো. আজহারুল ইসলাম দুলাল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান আরাফাত অনিক ও নওসিন নুসরাত বুশরা, রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সোহাগ দাশ, রবিদাসসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ রংপুরের সমন্বয়ক আদর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় সম্পদ। তাদের চিন্তা, মেধা ও উদ্যমকে যদি সামাজিক ও মানবিক কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, তবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুততর হয়। কিন্তু আধুনিক সময়ে প্রযুক্তি আসক্তি, আত্মকেন্দ্রিকতা ও লক্ষ্যহীনতার কারণে অনেক তরুণ সামাজিক কাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে তরুণদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
আলোচনায় বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামাজিক সচেতনতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সমাজসেবা, পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ তাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। পাশাপাশি তরুণদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কেউ লেখালেখিতে, কেউ প্রযুক্তিতে, কেউ সংগঠনে দক্ষ-এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগালে সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মগুলোকে আকর্ষণীয় ও সংগঠিত করতে হবে। সফল তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের গল্প প্রচার, প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের সুযোগ ও স্বীকৃতি প্রদান তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনলাইন ক্যাম্পেইন, সচেতনতামূলক ভিডিও ও ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে তরুণদের মানবিক কাজে যুক্ত করা সম্ভব।
সভায় তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই মোবাইল আসক্তি কমিয়ে পাঠাভ্যাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।
এ ছাড়া মেয়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক প্রচারণা এবং এ বিষয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ রংপুর জেলার চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, কিশোরী ও তরুণীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন না হলে টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরা হয়। রংপুর জেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করেন যে, তরুণ সমাজকে সংগঠিত করে শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজে যুক্ত করতে পারলেই একটি সচেতন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রস্তাবিত রংপুর জেলা শাখা আগামীতে সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া