অস্বচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়ার শেরপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার শহরের সাধুবাড়ী সালেহা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংগঠনটির উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বারী।
এতে অসহায়-দুস্থ, অসচ্ছল ও দরিদ্র শিক্ষার্থী ১৫ জন অংশগ্রহণ করছেন। ইতোমধ্যে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সেলাই প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মাহবুবার রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ শেরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মজনু। অনুষ্ঠানে শুভসংঘের উপদেষ্টা জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের শেরপুর প্রতিনিধি আইয়ুব আলী, শুভসংঘের স্থানীয় উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সদস্য গোলাম রব্বানী, হাবিবুর রহমান পান্না, নিলুফা ইয়াসমিন, ডা. সারোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শুরুতে স্বাগত বক্তৃতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা কর্মকর্তা ও সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জানিয়ে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক আইয়ুব আলী বলেন, অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সটি বিনা মূল্যে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে। এটি ব্যবহার করে যেন দরিদ্র নারীরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বসুন্ধরা শুভসংঘের শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বারী বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে শুভসংঘ পরিচালিত হয়। সংগঠনটি আত্মসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অসচ্ছল নারী ও শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তাদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ায় অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হন। বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেলে ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন নারীরা। এর ফলে তারা পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।
সমাজসেবক আলহাজ্ব মাহবুবার রহমান বলেন, ‘শুভ কাজে সবার পাশে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কেননা এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তাই গ্রামাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই সেলাই প্রশিক্ষণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশিক্ষণার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এই সেলাই প্রশিক্ষণ শেখার সুযোগ পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছি। এটি যেন নিয়মিত চালু থাকে, তাহলে আমার মতো অনেক অসহায় শিক্ষার্থীরাও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখবে। তিনি এই প্রশিক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শেষ করে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া