‘দুনিয়াতে আমার কেউ নেই। আমি জানি না আমার পরিবার কোথায়। শীত এলেই চারপাশে পিঠাপুলির উৎসব শুরু হয়, তখন খুব মন খারাপ লাগে। আজ শীতের পিঠা খেয়ে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আমার আপনজনেরাই আমাদের জন্য পিঠা নিয়ে এসেছে।’—কথাগুলোো বলছিল পঞ্চগড় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরির সদস্য হৃদয় হোসেন।
ছোট্ট হৃদয়ের বাবা-মায়ের কোনো খোঁজ নেই। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আশ্রয় মিলেছে পঞ্চগড় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরিতে। হৃদয়ের মতোই খুশিতে মেতেছে সেখানে থাকা আরও ১৬০ জন পরিচয়হীন, এতিম ও পথশিশু।
এই শিশুদের কারও বাবা নেই, কারও মা নেই, আবার কেউ জানেই না তার পরিচয়। একসময় রেললাইনের প্ল্যাটফর্ম, শহরের ব্যস্ত সড়কের ডিভাইডার কিংবা উড়াল সড়কের নিচে ছিল যাদের বসবাস, আজ তারা আশ্রয় পেয়েছে পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরিতে। এখানে থাকা শিশুদের একটি বড় অংশই পরিচয়হীন।
রবিবার সকালটি ছিল তাদের জন্য ব্যতিক্রম। হঠাৎ করেই শিশু নগরির দুয়ারে হাজির হয় বসুন্ধরা শুভসংঘ পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্যরা। শূন্য হাতে নয়, ব্যাগভর্তি শীতের নানা পিঠা নিয়ে আসেন তারা। মুহূর্তেই মিশন প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে শিশুদের আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে।
লাইন ধরে একে একে এগিয়ে আসে শিশুরা। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় গরম গরম তেল পিঠা ও ভর্তাসহ চিতই পিঠা। এরপর দলবেঁধে বসে তৃপ্তির সঙ্গে পিঠা উপভোগ করে শিশুরা। পিঠা উৎসবে অংশ নেন মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরাও। কিছু সময়ের জন্য হলেও শিশুদের মন থেকে মুছে যায় দুঃখ-কষ্টের ছাপ।
পরিচয়হীন শিশু সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের পরিবার এখন এই শিশু নগরিই। আজকের সকালে আমাদের জন্য এমন চমক থাকবে, তা ভাবতেই পারিনি। শীতের পিঠা পেয়ে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।’
আরেক শিশু সাদেক হোসেন বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ নেই। এখানেই আমরা বন্ধুদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করি। আজ বসুন্ধরা শুভসংঘের ভাই-বোনেরা আমাদের জন্য পিঠা নিয়ে এসেছে। আমরা খুব উপভোগ করেছি। চাই, তারা যেন সবসময় আমাদের পাশে থাকুক।’
পঞ্চগড় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরির সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, ‘এখানে থাকা ১৬০ শিশুর বেশিরভাগই পথশিশু ও পরিচয়হীন। লেখাপড়ার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বসুন্ধরা শুভসংঘের পিঠা উৎসবের মতো আয়োজন শিশুদের মনে আনন্দ ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগায়। আমরা চাই, আরও সামাজিক সংগঠন এভাবে পথশিশুদের পাশে দাঁড়াক। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
দৈনিক কালের কণ্ঠ'র পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা কমিটির উপদেষ্টা মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে পিঠা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পঞ্চগড় জেলা শাখার সহসভাপতি সুমন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সরকারসহ সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, নারী বিষয়ক সম্পাদক উম্মে নাহার ই জান্নাত, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামিরা তাসনিম ও কার্যকরী সদস্য মাকছুদা আক্তার মিলিসহ শুভসংঘের সদস্যরা।
বিডি-প্রতিদিন/এমই