রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জোরদারকরণে আমাদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারমাইকেল কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর দিলীপ কুমার রায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সজীব সরকার এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি খুশবু হাসান রনি। আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য সুজন, মুশফিকুর রহমান, সৃষ্টি, নওশন, মিতু, সাদিয়া, সমাপ্তি, ফারজানা, তাসমিয়া, সুরাইয়া, তৃপ্তি, আফসানা, সিমথি সহ অন্যান্য সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন মন্ডল বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখার এই আয়োজন অত্যন্ত যুগোপযোগী। সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা একটি সভ্য সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখতে পারলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি গঠনমূলক চিন্তা ও মানবিক আচরণের চর্চার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে তরুণ শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর দিলীপ কুমার রায় বলেন, সহনশীলতার অভাব থেকেই সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘাতের জন্ম হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই যদি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের চর্চা শুরু করা যায়, তবে ভবিষ্যৎ সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সময়োপযোগী এ আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে সাধুবাদ জানান।
স্বাগত বক্তব্যে সহ-সভাপতি খুশবু হাসান রনি বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কারমাইকেল কলেজ শাখা প্রতি মাসে কলেজকেন্দ্রিক বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের পাশাপাশি কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যেতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক সজীব সরকার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রাখতে তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তারা আলোচনায় আদর্শিক সমাজ গঠনে নানা ইতিবাচক মতামত তুলে ধরেন। তাদের মতে, ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ ও সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হলেও সবাইকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সহনশীলতা ও সম্প্রীতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল