প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের একান্ত সচিব কবির উদ্দিনসহ দুই কর্মকর্তাকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিগত সময়ে নিয়োগ, প্রমোশন, আপগ্রেডেশন ও পেনশনসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপাচার্যের একান্ত সচিব কবির উদ্দিন অতিরিক্ত আপগ্রেডেশন সুবিধা নিয়েছেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগারিক সেবিকা সুলতানাকে নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কবির উদ্দিন ও সেবিকা সুলতানার দুটি করে ইনক্রিমেন্ট বাতিল এবং তাদের তিরস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রার দপ্তরের উপরেজিস্ট্রার কবির উদ্দিন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা-২০১৪ অনুযায়ী কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা পদে আপগ্রেডেশন পান। তার দুটি আপগ্রেডেশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তিনটি আপগ্রেডেশন নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সাবেক পরিচালক এ কে এম ফেরদৌসকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হলেও তিনি সেই যোগ্যতা পূরণ করেননি বলে জানা গেছে।
২০২১ সালের ৩০ জুন তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পরবর্তী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার লিখিত অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ সময় নতুন কোনো চুক্তি করা হয়নি। এ কারণে চুক্তিবিহীন অবস্থায় গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ফেরত নেওয়া হবে না কেন, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
অন্যদিকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার মো. জামাল উদ্দিন প্রশাসনিক পদে আপগ্রেডেশনের আগে বাইরের প্রতিষ্ঠানের যে অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছেন, তা প্রথম নিয়োগের সময় সংযুক্ত ছিল না। পরে জমা দেওয়া ওই সনদ যাচাই করে সেখানে কোনো ক্রমিক নম্বর পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সনদ ও নথিপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সাজেদুল করিম বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস